বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁকে নিয়ে ছিল জল্পনা! অবশেষে একেবারে ভোটের সাতদিন আগে তৃণমূল ছাড়লেন জলঙ্গির প্রাক্তন বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল। বুধবার রাতে জলঙ্গির কাঁটাবাড়িতে তাঁর বিধায়ক কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানান। শুধু তাই নয়, প্রার্থী হতে না পারার জন্য রানিনগরের প্রার্থী সৌমিক হোসেনকেও একহাত রাজ্জাক। তাঁর অভিযোগ, সৌমিক হোসেন নিজেকে ডোমকল মহকুমার নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। সেই কারণেই বেলডাঙ্গা থেকে বাবর আলি এবং ডেবরা থেকে হুমায়ুন কবিরকে-জলঙ্গি সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে। যদি তাঁরা জিতেও যায় তো, এখানে থাকবে না। তাদের অবর্তমানে সৌমিক নেতাগিরি করবে বলে দাবি রাজ্জাকের। এমনকী ডোমকল মহকুমার তিন আসনেই তৃণমূল হারবে বলেও দাবি তাঁর। যদিও পালটা সৌমিক হোসেন জানান, “টিকিট দেওয়ার আমি কেউ নই, উনি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এরকম বলছেন।”
বুধবার রাতে সাংবাদিক বৈঠকে আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রানিনগর বিধানসভায় দলের প্রার্থী পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও সৌমিককে ডোমকল মহকুমার কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। তবে এবার জলঙ্গিতে তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত আক্ষেপ না থাকলেও, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মন্তব্যে তিনি গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন। রাজ্জাক মণ্ডলের কথায় “আমার দুঃখ একটাই, দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকদিন আগে জলঙ্গির সাদিখাঁরদিয়াড়ে অনুষ্ঠিত জনসভায় বলেছেন, আমার নামে অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে, সেই কারণে আমাকে টিকিট দেওয়া হয়নি। এই মন্তব্য আমার ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনকে কলুষিত করেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, কারা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করল এবং কেন কোনও আলোচনা ছাড়াই তাঁকে বদনাম করা হল। এই পরিস্থিতি মেনে নিতে না পেরে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তাঁর বক্তব্য, “আজ থেকে আমি সাধারণ মানুষ হিসেবেই থাকতে চাই।”
রাজ্জাক মণ্ডলের কথায় “আমার দুঃখ একটাই, দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকদিন আগে জলঙ্গির সাদিখাঁরদিয়াড়ে অনুষ্ঠিত জনসভায় বলেছেন, আমার নামে অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে, সেই কারণে আমাকে টিকিট দেওয়া হয়নি। এই মন্তব্য আমার ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনকে কলুষিত করেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, কারা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করল এবং কেন কোনও আলোচনা ছাড়াই তাঁকে বদনাম করা হল। এই পরিস্থিতি মেনে নিতে না পেরে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
একইসঙ্গে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক দাবি করে আব্দুর রজ্জাক বলেন, ডোমকল মহকুমার তিনটি কেন্দ্রেই তৃণমূল প্রার্থীরা পরাজিত হবে। আর এই পরাজয়ের দায় ভবিষ্যতে তাঁর ওপর চাপানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সেই কারণেই তিনি দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। তবে তৃণমূল ছাড়লেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। ভবিষ্যতে অন্য কোনও দলে যোগ দিতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন, যদিও নির্বাচনের আগে তিনি কোনও দলে যোগ দেবেন না বলে স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “আমি সাধারণ ভোটার হিসেবেই ভোট দেব। তৃণমূল বা অন্য কোনও দল, যাকে ইচ্ছা ভোট দিতে পারি।”
রাজ্যের সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, আইপ্যাক বিভিন্নভাবে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তিনি রাজি হননি বলেই তাঁকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ তাঁকেই অস্বচ্ছ বলে অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও জলঙ্গি, ডোমকল ও রানিনগর কেন্দ্রে বহিরাগত প্রার্থী দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল। তাঁর মতে, স্থানীয় প্রার্থী দিলে স্বাভাবিকভাবেই একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক তৈরি হয়, যা দল উপেক্ষা করেছে। অতীতে জলঙ্গিতে বহিরাগত প্রার্থীদের মানুষ নির্বাচিত করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সবশেষে তিনি বলেন, “জলঙ্গিতে আমিই তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছি। অথচ আমাকেই বদনাম করা হল।” দল তাঁকে কোনও নির্বাচনী কমিটিতেও স্থান দেয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, সেটিও দলত্যাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
