চুয়াড় বিদ্রোহের মহানায়ক রঘুনাথ মাহাতোর জন্মদিনে বলেছিলেন, বিজেপির সঙ্গেই থাকবেন। আর তাঁর মৃত্যু দিন শহিদ দিবস ৫ই এপ্রিল রবিবার, পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, আগামী ৫ বছর বিজেপিকে দেখবেন তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে তাঁরা কি করছেন। তাই শাহকে দেওয়া কথা রাখতে জঙ্গলমহলের ৪ জেলা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরে একেবারে বিধানসভাভিত্তিক বিজেপি প্রার্থীর হয়ে সরাসরি প্রচারে নেমেছেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো। আর তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে পুরুলিয়া-সহ সমগ্র জঙ্গলমহলে। আদিবাসী কুড়মি সমাজেও মূল মানতার এই কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। বিভিন্ন কুড়মি সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে গলা ফাটাচ্ছে।
তবে এই প্রসঙ্গে মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর একেবারে পরিষ্কার ব্যাখ্যা, "রেলটেকা করতে গিয়ে পুলিশ যেভাবে আমাদের উপর অত্যাচার করেছে। একেবারে 'ক্রিমিনাল'-র মত আচরণ করেছে। সেই কারণেই গত ৮ অক্টোবর পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী সভায় আমি ঘোষণা করেছিলাম, 'নো ভোট টু টিএমসি'। কিন্তু তারপরেও শাসক দল কোন হেলদোল দেখায়নি। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে আমাদের কর্মসূচিতে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় তৃণমূলকে একটি ভোট নয়। বিজেপির উপরও আমরা শর্ত আরোপ করেছিলাম। কিন্তু বিজেপির কাছ থেকে আমাদের দাবি পূরণে সাড়া পেয়েছি। তৃণমূল কিছু করেনি। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলে এসেছি আমরা ৫ বছর আপনাদের দেখবো। আমাদের দাবি দাওয়া নিয়ে আপনারা কি করছেন।"
তবে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেই 'নো ভোট টু টিএমসি'র ডাক দিয়েছিলেন। তবে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, কোনরকম সন্ত্রাস চালানো হয়নি। রেলটেকা বা রেল অবরোধকে হাইকোর্ট 'বেআইনি' ও 'অসাংবিধানিক' বলেছিল। সেই কারণেই পুলিশ পদক্ষেপ নেয়। আদিবাসী কুড়মি সমাজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই মূল মানতা পুরুলিয়ার বান্দোয়ান, পাড়া, মানবাজার, কাশিপুর ও জয়পুর বিধানসভায় সাংগঠনিক বৈঠকে বিজেপি প্রার্থীকে ডেকে সংগঠনের বিধানসভা ভিত্তিক নির্বাচনী কমিটি গড়ে ওই প্রার্থীর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছেন, বিজেপি প্রার্থীকে ভোটে জয়লাভ করাতে ওই কমিটিকে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
মূল মানতার এমন বিজেপি প্রীতিতে পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু মাহাতো বলেন, "আমরা আমাদের সংগঠনের কর্মী, সমর্থক এবং জনজাতির মানুষজনদেরকে আগেই বলেছিলাম, শুধু জয়পুর আসনে তাঁর ছেলের জন্য মূল মানতা প্রচার করবেন না। এই জেলার সমস্ত বিধানসভাতেই তিনি বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচার করবেন। সেই জন্যই তো দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর 'ডিল' হয়েছে। আজ তা পরিষ্কার হয়ে গেল। তবে তিনি যেভাবে কুড়মি আবেগের জলাঞ্জলি দিলেন তাতে আমাদের জনজাতির মানুষ ভালো চোখে নেবেন না।"
শহর পুরুলিয়ার সাহেব বাঁধ এলাকায় গরাম থানে এদিন স্বাধীনতা সংগ্রামী রঘুনাথ মাহাতোর শহীদ দিবস পালন করে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। সেখানে কর্মী- সমর্থকদেরকে নিয়ে দিনভর হাজির ছিলেন মূল মানতা। ওই কর্মসূচিতেও বিজেপি প্রার্থীদের জেতাতে নীল নকশা তৈরি হয়।
