রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার গিরিশ পার্কের বাড়ির সামনে 'বয়কট বিজেপি' লেখা পোস্টারগুলি প্রকাশ্যেই সদলে ছিঁড়ে ফেলছেন মালদহের এক বিজেপি নেতা। সোশাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই শোরগোল শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। জেলা পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে অভিযুক্ত নেতাকে। ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কলকাতার রাজপথে নিজের হাতেই পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন মালদহ জেলা পরিষদের বিজেপি সদস্য তারাশংকর রায়। ছিঁড়ছেন সঙ্গীরাও। রীতিমতো তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। অভিযোগ, তারপর একজন মহিলা মন্ত্রীর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। পোস্টার ছেঁড়ার ভাইরাল সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি 'সংবাদ প্রতিদিন'। এই ছবি ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিন্দার ঝড় উঠেছে সোশাল মিডিয়ায়।
পুলিশের একটি সূত্রে খবর, অভিযুক্ত সেই নেতার নাম তারাশংকর রায়। বাড়ি মালদহের হবিবপুর থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সিঙ্গাবাদ ঋষিপুর এলাকায়। তিনি মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য। উত্তর মালদহের যুব বিজেপির সভাপতি পদেও রয়েছেন তিনি। তাঁর খোঁজে মালদহের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। রবিবার রাত পর্যন্ত তাঁর খোঁজ মেলেনি। মালদহ জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে মন্ত্রীর বাড়িতেও হামলার অভিযোগে কলকাতা ও মালদহে মামলা রুজু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, কলকাতার গিরিশ পার্কে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির আশপাশে 'বয়কট বিজেপি' লেখা বেশ কিছু পোস্টার, ফ্লেক্স লাগানো হয়েছিল।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সমাবেশে যাওয়ার পথে তারাশংকর রায় নামে মালদহ জেলা পরিষদের ওই বিজেপি সদস্য ও তাঁর কিছু অনুগামী গিরিশ পার্কের সেই দিয়ে যাওয়ার সময় পোস্টারগুলি ছিঁড়ে ফেলতে শুরু করেন। তখন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা প্রতিবাদ করতে গেলে বিজেপি কর্মীরা হামলা শুরু করেন বলে অভিযোগ। বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়েন, জানলার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকারও চেষ্টা করা হয়। আক্রান্ত হন মন্ত্রী শশী পাঁজাও।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের বহু সমর্থক সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই পোস্ট করে লিখছেন, মালদহ থেকে কলকাতায় গিয়ে একজন মহিলা মন্ত্রীর বাড়ির সামনে এই ধরনের আচরণ করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর মাধ্যমে মালদহের সুনাম নষ্ট করা হচ্ছে বলেও দাবি তুলেছেন অনেকেই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারাশংকর রায়কে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিও উঠেছে সোশাল মিডিয়ায়। অনেকেই এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশ ও মালদহ জেলা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এদিন ওল্ড মালদহের বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, ব্রিগেড সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে বিজেপি নেতা তারাশংকর রায় ও দলের কর্মীদের বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ তাণ্ডব চালাচ্ছে। রবিবার সকালে ওল্ড মালদহ পুরসভার বাচামারি এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। বিজেপির উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু ভট্টাচার্য ও অন্যান্য বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায় বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত তারাশংকর রায় ওই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর পাওয়ায় তাঁর খোঁজেই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ওল্ড মালদহ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি শত্রুঘ্ন সিংহ বর্মা বলেন, "বিজেপির এই ধরনের সন্ত্রাস মানুষ মেনে নেবেন না। অবিলম্বে তারাশংকর ও তাঁর দলবলকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তবে পুলিশ নিরপেক্ষভাবেই কাজ করছে।"
