ছাব্বিশের ভোটের আগে বড় বদলের সাক্ষী হতে চলেছে ভাঙড়। নির্বাচনের মুখে তৃণমূল ছাড়ার পথে ভাঙড়ের 'তাজা নেতা' আরাবুল ইসলাম। যোগ দিতে পারেন নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফে। আজই আরাবুলের ফুরফুরা শরিফ যাওয়ার কথা। সেখানে আইএসএফের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দলে যোগ দেওয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু কেন ভোটের আগে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে চাইছেন আরাবুল ইসলাম? এর জবাব সরাসরি না দিলেও অভিমানের কথা শোনা গেল তাঁর মুখে। বললেন, ''আরাবুল ইসলামকে তৃণমূল চিনতে পারেনি। দলের সঙ্গে সবসময় আমি থেকেছি, কাজ করেছি। কিন্তু এখন আমি কোণঠাসা।'' শোনা যাচ্ছে, তাঁর সঙ্গে দলত্যাগ করতে পারেন তৃণমূলের আরেক নেতা কাইজার আহমেদও।
কেন ভোটের আগে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে চাইছেন আরাবুল ইসলাম? এর জবাব সরাসরি না দিলেও অভিমানের কথা শোনা গেল তাঁর মুখে। বললেন, ''আরাবুল ইসলামকে তৃণমূল চিনতে পারেনি। দলের সঙ্গে সবসময় আমি থেকেছি, কাজ করেছি। কিন্তু এখন আমি কোণঠাসা।''
তৃণমূলের সঙ্গে আরাবুলের সম্পর্ক অম্ল-মধুর। একসময়ে ভাঙড় দাপিয়ে বেড়ানো 'তাজা নেতা' কলেজ শিক্ষিকার মাথায় জগ ছুড়ে মারার মতো গুরুতর কাজের জন্য দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় তৃণমূল। দলে ফিরে ফের দাপট দেখাতে শুরু করেন আরাবুল ইসলাম। ভাঙড় ও সংলগ্ন এলাকায় কার্যত আরাবুলেরই 'শাসন' চলত। ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে নানা ইস্যুতে দ্বন্দ্বে জড়ান আরাবুল। দল এনিয়ে বারবার সতর্ক করলেও তা কানে তোলেননি তিনি। বছর তিন আগে পঞ্চায়েত ভোটে এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ গ্রেপ্তার হন আরাবুল। পরে অবশ্য জামিনে ছাড়া পেয়ে সমর্থকদের 'আপ্যায়ণে', মালা পরে ভাঙড়ে প্রবেশ করেন।
জেলমুক্তির পর অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে মালা পরে ভাঙড়ে প্রবেশ আরাবুলের। ফাইল ছবি
কিন্তু শওকতের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব ঘোচেনি। এবার বিধানসভা ভোটের আগে আরাবুলের অভিযোগ, তিনি দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। সমস্ত আন্দোলনে দলের সঙ্গে থেকে শামিল হওয়ার পর দল ইদানিং তাঁকে ব্রাত্য করে দিয়েছে। তাই মনের দুঃখেই তিনি তৃণমূল ছাড়ার কথা ভাবছেন। তিনি আইএসএফে যোগ দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে পারে। একুশের নির্বাচনে ভাঙড়ের আসনটি হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি জিতে বিধায়ক হন। এবার তা ফের দখলের জন্য অভিজ্ঞ কাউকে ময়দানে নামাচ্ছে শাসক শিবির। সেখানে কি তৃণমূলের প্রতিপক্ষ হবেন আরাবুল? বিধায়ক নওশাদ কি নিজের আসন ছেড়ে দেবেন? এমনই হাজারও প্রশ্ন উঠছে। তবে সবটাই নির্ভর করছে আরাবুলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের উপর।
