এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে পোশাক ফতোয়া! লুঙ্গি পরে ভোট দিতে গিয়েছিলেন বৃদ্ধ। কেন তিনি লুঙ্গি পরে এসেছেন? সেই প্রশ্ন তুলে বৃদ্ধ ভোটারকে ভোটকেন্দ্র থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে! অগত্যা ওই বৃদ্ধ নাতির একটি প্যান্ট জোগাড় করে সেটি পরে ফের ভোট দিয়েছেন। এই ঘটনা আরও বেশ কিছু স্থানীয়ের সঙ্গে হয়েছে বলে অভিযোগ। ন্যক্কারজনক এই ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা বিধানসভার বেড়গুম ১ নম্বর পঞ্চায়েতের কুঁচলিয়ায়। যে বৃদ্ধকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাঁর নাম আবদুল রউফ মণ্ডল।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে রাজ্যের দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026 2nd Phase) চলছে। বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ ভোটারদের উপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে ভোটারদের চড় মারার অভিযোগ উঠেছে। বাগদায় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য-সহ কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও আরও একাধিক অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন জায়গায়। তবে গাইঘাটা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে পোশাক ফতোয়া তাদের ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কুঁচলিয়া এলাকা মূলত গ্রাম্য। সাধারণ বয়স্ক, প্রৌঢ় পুরুষরা লুঙ্গি পরেন। অতীতেও গ্রামের পুরুষরা লুঙ্গি পরে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনওদিন সমস্যা হয়নি। এবারও গ্রামে ভোটকেন্দ্র হয়েছে। সকালে নির্দিষ্ট সময়ে প্রৌঢ় আবদুল রউফ মণ্ডল ভোট দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে ওই কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তিনি লুঙ্গি পরে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। কেন তিনি ওই পোশাকে এসেছিলেন? লুঙ্গি পরে ভোট দেওয়া যাবে না! সেই কথা বলে ওই বৃদ্ধকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বাড়ি ফিরে এসে নাতির থেকে একটি প্যান্ট জোগাড় করেন। সেই প্যান্ট পরে ফের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। বলাবাহুল্য এবার তিনি কোনও বাধার মুখে পরেননি। পরে জানা যায়, ওই ঘটনা আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে হয়েছে! কেন্দ্রীয় বাহিনী কীভাবে এমন কাজ করতে পারে? সেই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ ছড়ায়। তৃণমূল নেতৃত্বও বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিক্ষোভের জেরে শেষপর্যন্ত এই ফতোয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বাহিনীর জওয়ানরা। জানা গিয়েছে, পরবর্তী সময়ে লুঙ্গি পরে পুরুষদের ভোট দিতে যেতে বাধা দেওয়া হয়নি। যদিও প্রিসাইটিং অফিসারের তরফ থেকে এই বিষয়ে মন্তব্য করা হয়নি। বাহিনীর জওয়ানরাও এই বিষয়ে কথা বাড়ায়নি।
