চলতি মাসের শেষেই রাজ্যে ভোট। আবহাওয়ার মতোই বাংলার ভোটের হাওয়াও গরম হচ্ছে। এই আবহে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি কোথায় কী? তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। ভোটের খুঁটিনাটি দেখতে শনিবার থেকেই জেলা সফর শুরু সিইও-র। সব জেলার প্রশাসনিক দফতর ঘুরে দেখবেন, কথা বলবেন আধিকারিকদের সঙ্গেও।
কমিশন সূত্রে খবর, শনিবার প্রথমে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকেই ভোট প্রস্তুতি দেখবেন সিইও মনোজ। কোথায় নির্বাচনের জন্য কী ব্যবস্থা, কমিশনের গাইডলাইন মেনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিনা, তা দেখা হবে। একই প্রক্রিয়া চলবে প্রত্যেকটি জেলাতেই।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। আদর্শ আচরণবিধি চলছে রাজ্যে। জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। বিভিন্ন কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতেও শুরু করেছেন। প্রসঙ্গত, ভোট ঘোষণার দিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। তার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। জেলায় জেলায় ভোটপ্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মনোজের টহলদারি তারই অঙ্গ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বাংলায় ভোটের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চায় না কমিশন। ভোট ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের রদবদল করা হয়েছে। অন্যবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হয়েছে বাংলায়। পয়লা মার্চ থেকে রাজ্যে এসে গেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং চলছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি চালানোর ব্যবস্থা থাকবে প্রতি বুথে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিগুলি পালন করতে যথেষ্ট বন্দোবস্ত হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে চান মনোজ। উল্লেখ্য, এসআইআর-কে কেন্দ্র করে মোথাবাড়িকাণ্ডের জল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। নিজেদের নিয়োগ করা প্রশাসনিক আধিকারিকদেরই 'অপদার্থতা' নিয়ে মুখ পুড়েছে কমিশনের। আদালতের নির্দেশে মালদহ কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এই ঘটনার পরই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের পরেও আজ থেকে জেলায় জেলায় সফর শুরু করছেন মনোজ।
