সিপিএমের বড় অংশই চাইছে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে রাজ্যজুড়ে প্রচারকের ভূমিকা পালন করুন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। আর সেই চাপে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা দূরে সরিয়ে রাখতে চলেছেন সেলিম! এখনও পর্যন্ত সূত্রের যা খবর, পার্টির একাংশের চাপে এবং ভোটে দাঁড়ালে হারের আবার রেকর্ড গড়তে পারেন তাই সেলিম প্রার্থী হওয়ার লাইন থেকে নিজেই পিছু হঠছেন।
বুধবার রাজ্য সিপিএমের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক হয়েছে। যেটুকু খবর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় প্রার্থী হচ্ছেনই। এবং সেটা উত্তরপাড়া কেন্দ্রে। আর আরেক জন কমিটির সদস্য পলাশ দাসও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় থাকতে চলেছেন। প্রাক্তন যুব নেতা আভাস রায়চৌধুরী প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু সেলিম এবং সুজন চক্রবর্তীরা প্রার্থী হচ্ছেন না বলেই এখনও পর্যন্ত খবর। সুজন প্রার্থী হন পার্টির বড় অংশ চাইলেও তিনি নিজে না লড়ে প্রচারের দায়িত্ব পালন করতে চাইছেন। উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন সেলিম। হুমায়ূন কবীরের সঙ্গেও তাঁর গোপন যোগ রয়েছে বলে খবর। কংগ্রেসকেও জোটে পেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কংগ্রেস জোট অতীত, হুমায়ুনের সঙ্গে যোগ নিয়েও পার্টিতে চরম সমালোচিত হয়েছেন সেলিম। তাই আশা ছেড়ে শেষমেশ পার্টির চাপে প্রার্থী হতে চাইছেন না তিনি, এমনটাই খবর। এদিকে, আইএসএফের সঙ্গেও আসন রফা চূড়ান্ত হচ্ছে না। আইএসএফের সঙ্গে জোট প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই ২৪ পরগনার আসন রফা।
এই দুই জেলায় আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কোনও রকম আপস করতে রাজি নয় নওশাদ সিদ্দিকির দল। বাম নেতৃত্বকে আইএসএফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, দুই ২৪ পরগনায় তারা যে আসনগুলি দাবি করেছে, সেই দাবি থেকে তারা সরছে না। মূলত উত্তর ২৪ পরগনায় কয়েকটি আসন নিয়েই নওশাদের দলের সঙ্গে বামেদের জোটে জট বেশি। এই জেলায় আইএসএফ এবার ৮টি আসনে লড়াই করতে চায়। পাশপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেও বাম ও আইএসএফের আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এদিকে, শরিকদের সঙ্গেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত রফা হয়নি। ২২টি আসন ফরওয়ার্ড ব্লককে দিতে চায় সিপিএম। আরএসপিও ১৩টি আসনে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। সিপিআইকে ১৮টি আসন ছাড়ার কথা বলেছে সিপিএম। বুধবার সিপিএমের সঙ্গে বৈঠকে আরও দু'টি আসন চাইছে সিপিআই। ১৬ কিংবা ১৭ তারিখ ফ্রন্টের বৈঠকে আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
