গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র থেকে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ট্রেন থেকে প্ল্যাটফর্মে নামা শ্রমিকদের মুখে শোনা যাচ্ছে 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি। তাহলে কি বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে তাঁদের চাপ দেওয়া হয়েছে? সেই প্রশ্ন উঠেছে। শ্রমিকদের অনেকে কবুলও করেছেন, এবার ভোটে (West Bengal Assembly Election) পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল না হলে ভিন রাজ্যে কাজ মিলবে না! ট্রেনে ওঠার আগে এমনটাই নাকি বলেছেন সেখানকার বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের নির্দেশ রাজ্যে সরকার না পাল্টালে বাড়িতেই থেকে যেতে হবে!
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের এক রেল কর্মী জানান, এর আগেও অনেক ভোট হয়েছে। কিন্তু এবারের মতো দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফিরতে দেখা যায়নি! এর আগে যারা ফিরেছে, তাঁদের চোখেমুখে ধরা দিয়েছে ঘরে ফেরার উচ্ছ্বাস। এবার উল্টো ছবি! মালদহ থেকে কোচবিহার পর্যন্ত কাতারে কাতারে যে শ্রমিকেরা ফিরছেন তাঁদের মুখে হাসি নেই। প্রত্যেকে কমবেশি উদ্বিগ্ন। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেগুলো ‘সামার স্পেশাল’ হিসেবে চলছে। ভোটের আগে বিভিন্ন জেলার পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফেরেন। ভোটের দিন গ্রামের বুথে ভোট দেওয়ার জন্য ভোরে লাইনে দাঁড়ান। এটা নতুন ঘটনা নয়। এবার যেটা নজর কেড়েছে পরিযায়ী শ্রমিক ভোটারদের 'বডি ল্যাঙ্গুয়েজ'। কোচবিহারের খোলটার বাসিন্দা গুজরাট ফেরত পরিযায়ী শ্রমিক কমল বর্মন বলেন, "এখানে কাজ নেই। পেলেও মজুরি কম। তাই বাড়ি ছেড়ে গুজরাটে আছি। এবার বিজেপি থেকেই ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করেছে। ট্রেনে খাবার, জল দিয়েছে। তাই 'জয় শ্রীরাম' বলছি।"
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণার অনেক আগে থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের টার্গেট করেছে বিজেপি। বিশেষত, উত্তরের আট জেলার অন্তত ২২ লক্ষ তরুণ-যুবকরা দীর্ঘদিন থেকে তামিলনাড়ু, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং দিল্লিতে কাজের সূত্রে থাকেন। ওই রাজ্যের বিজেপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থা থেকে নামের তালিকা সংগ্রহ করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলেছে। ভোট দিতে বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ওই শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজেপি নেতারা কাজ হারানোর ভয় দেখিয়ে পদ্ম প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দিয়েছে।
তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক মৃদুল গোস্বামী বলেন, "এভাবে ধমকে-চমকে লাভ হবে না। ওই শ্রমিকদের প্রতিটি পরিবার রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকেন। আমরা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলি।" যদিও চাপ সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির প্রদেশ কমিটির অন্যতম সম্পাদক প্রবাল রাহা। তিনি বলেন, "আমরা শ্রমিকদের ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করেছি মাত্র। সেটাই এখন তৃণমূলের রাতের ঘুম কেড়েছে। কারণ, ওরা নিজেরাও জানে না, কত লক্ষ বেকার কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে।"
