২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলায় এসে একাধিক নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে 'দিদি ও দিদি' বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই নিয়ে সেই সময় বিতর্ক ও ব্যাপক আলোচনা হয়। এবার আরও একধাপ এগিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মমতাকে 'এই দিদি' বলে ডাকলেন। এই ডাক অবমাননাকর বলে দাবি করেছে তৃণমূল। তাদের আরও দাবি, মুখ ফসকে নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করেছেন অমিত শাহ।
'দিদি ও দিদি'র পর এবার 'এই দিদি', মোদির পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার অভিযোগ উঠল অমিত শাহের বিরুদ্ধে। সোশাল মিডিয়ায় অমিতের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তৃণমূল। সেখানে আঙুল উঁচিয়ে 'এই দিদি' বলতে শোনা যাচ্ছে অমিত শাহকে। এভাবে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কটূক্তি করে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি অপমান করেছেন বলে দাবি করে তৃণমূল। একে "পরিকল্পিত অবমাননার রাজনীতি" বলে তোপ দেগেছে রাজ্যের শাসকদল। তারা জানিয়েছে, "এটা রাজনীতি নয়, রাস্তাঘাটের অসুস্থ মানসিকতাকে মঞ্চে তুলে আনা হয়েছে।" একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে “এই দিদি” বলে ডেকে অমিত শাহ শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি, বাংলার প্রতিটি মেয়ের সম্মানকে টার্গেট করেছেন। বিজেপি আজ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তাদের কাছে নারী সম্মান শুধু ভাষণের কথা, বাস্তবে তারা অপমানকেই হাতিয়ার করে।
তৃণমূল আরও জানায়, নরেন্দ্র মোদি রাস্তা দেখিয়েছিলেন। সেই রাস্তায় হেঁটে এবার আরও নিচে নামলেন অমিত শাহ। দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি এই ভাষায় নামে, তাহলে বোঝা যায়, তাদের রাজনীতি ঠিক কতটা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। রাজনীতিতে মতের লড়াই হতে পারে, হওয়া উচিত। কিন্তু একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এই ধরনের কটূক্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপির 'সংস্কৃতি' ও 'সম্মান' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মোদির মুখে 'দিদি ও দিদি' প্রথমবার শোনা গিয়েছিল। মমতাকে এভাবে ডেকে কুৎসিত ব্যঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এই নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে। এবার অমিত শাহ মোদির দেখানো পথেই হাঁটলেন।
