ভোটের আগে উত্তর শহরতলিতে বিজেপির অন্দরের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র। বারাসত কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই অসন্তোষ থাকলেও এবার তা সরাসরি বিস্ফোরণের আকার নিয়েছে। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি তাপস মিত্র প্রকাশ্যেই বিজেপি প্রার্থী শংকর চট্টোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, “কীভাবে উনি প্রার্থী হয়েছেন সব জানি, সঠিক সময়ে সব প্রকাশ্যে আনব।” ইতিমধ্যেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতিন নবীনকে মেল করে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। আর তাতেই তীব্র অস্বস্তিতে বারাসত জেলা বিজেপি।
ছাব্বিশের নির্বাচনের জন্য ধাপে ধাপে প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। তারপর থেকেই নানা জায়গায় প্রার্থীদের নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বারাসতে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হিসেবে শংকর চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়া, দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রার্থী বদলের দাবি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই প্রাক্তন জেলা সভাপতি তাপস মিত্রর অভিযোগ, “দলের সমীক্ষা শংকরের বিরুদ্ধে থাকা সত্ত্বেও অগণতান্ত্রিকভাবে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে।” নিজেকে ‘ভূমিপুত্র’ দাবি করে শংকরকে ‘বহিরাগত’ বলেও আক্রমণ করেছেন তিনি। ২০২১ সালের ভোটের প্রসঙ্গ টেনে তাপসবাবুর দাবি, “আগেই সতর্ক করেছিলাম, তারপর কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছে, খুনও হয়েছে, সেই সময় পাশে পাওয়া যায়নি তাঁকে।” যদিও এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিষয়টি দলীয় নেতৃত্ব দেখবে। আর আমি বহিরাগত নই।”
অন্যদিকে, খড়দহের কল্যাণ নগর মাঠপাড়া এলাকায় প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম বিজেপি কর্মী শিশির রায়কে বাড়ির সামনে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দলেরই কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় আতঙ্কে পরিবার নিয়ে গৃহবন্দি শিশির। তাঁর অভিযোগ, “পাঁচ-ছয় জন লোক এসে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। আমি নিরপরাধ মানুষ, বিজেপি করি বলেই এই হুমকি।” এনিয়ে কলকাতা উত্তর শহরতলি জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি মলয় চক্রবর্তীর বক্তব্য, “এমন কিছু হয়ে থাকলে দল দেখবে, কেউ বিশৃঙ্খলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভোটের মুখে বারাসত থেকে খড়দহ দুই জায়গাতেই অন্দরের কলহ প্রকাশ্যে আসায় চাপে বিজেপি নেতৃত্ব।
