ভোটের আগে পদ্ধতি পাল্টে স্কুটি-বাইকেও টাকা পাচার। হাওয়ালার টাকার সঙ্গে সঙ্গে শহরে পাচার হচ্ছে সোনাও। সেদিকেও নজর রয়েছে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের বিশেষ টিমের। তবে পুলিশের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছোট গাড়ি করেই টাকা পাচার হচ্ছে। এমনকী, বাদ পড়ছে না ক্যাব বা ট্যাক্সিও।
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে শহরে অন্তত দু’টি ক্ষেত্রে বাইক ও স্কুটি করে পাচারের আগেই টাকা এবং সোনা উদ্ধার হয়েছে। সম্প্রতি প্রগতি ময়দান এলাকায় নাকা চেকিং চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের ফ্লাইং স্কোয়াড একটি স্কুটি আটক করে। স্কুটি পরীক্ষা করে পুলিশ জানতে পারে যে, এতে করে পাচার হচ্ছিল লক্ষাধিক টাকা। ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকায় নাকা চেকিং চলার সময়ও পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের বিশেষ টিম একটি বাইককে আটক করে। বাইকের ডিকির ভিতর তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে একটি ব্যাগ। তার ভিতর থেকেই উদ্ধার হয় সোনার গয়না ও বিস্কুট। সেগুলি পাচার হওয়ার আগেই পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে। এরপর থেকে গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে বাইক ও স্কুটির দিকেও বিশেষ নজর নাকা চেকিং টিমের। ইতিমধ্যে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের বিশেষ টিমের হাতে প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে।
এদিকে গোয়েন্দাদের মতে, ভিনরাজ্য থেকেও টাকা এসে পৌঁছচ্ছে রাজ্যের নানা প্রান্ত ও কলকাতায়। এর মধ্যে কিছু আসছে হাওয়ালার মাধ্যমে। আবার কিছু নিয়ে আসা হচ্ছে সড়কপথেও। গত কয়েকবার ভোটের আগে একসঙ্গে বিপুল টাকা পাচার হওয়ার সময় পুলিশ উদ্ধার করেছিল। কিন্তু এবার গোয়েন্দাদের অভিমত, একসঙ্গে অনেক টাকার বদলে কম পরিমাণ করে টাকা পাচার করার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে তা সহজে পুলিশের নজরে না পড়ে। সাধারণভাবে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ নগদ টাকা পাচারের চেষ্টা করছে পাচারকারীরা। পাচার হওয়া টাকার একটি অংশ ধরাও পড়ছে।
ভিনরাজ্যের ক্ষেত্রে সড়কপথে টাকা নিয়ে আসা হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায়। সীমান্ত পার হওয়ার পর গাড়ি পালটে টাকা নিয়ে আসা হচ্ছে কলকাতায়। ফের কলকাতা থেকে গাড়ি পাল্টে ক্যাব বা ছোট গাড়ি ভাড়া করে ওই টাকা গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রথমদিকে মূলত রাতেই টাকা পাচার করার চেষ্টা করে পাচারকারীরা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দিনেও গাড়ি করে টাকা পাচার করা হয়। পুলিশের মতে, নাকা চেকিংয়ে এসএসটি ও পুলিশ যৌথভাবে চেষ্টা করছে প্রত্যেকটি গাড়িতেই তল্লাশি চালাতে। এছাড়াও গাড়ির চালক ও আরোহীদের ভাবভঙ্গি দেখে সন্দেহ হলেই সেই গাড়ির ডিকি, এমনকী, সিটের তলায়ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাতেই ধরা পড়ছে টাকা। টাকা উদ্ধারের পর সেগুলি আসল, নাকি জাল, সেদিকেও পুলিশ নজর রাখছে। ভোটের আগে পর্যন্ত টাকা পাচারের উপর নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
