বছর দুয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনেও সিপিএমের হয়ে পথে পথে ঘুরে প্রচার করেছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রচারে সেই সিপিএম প্রসঙ্গ উঠতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahaman)। বললেন, "শূন্য একটা দল...এত সিপিএম সিপিএম করলে তো মুশকিল। আগে ওদের প্রাসঙ্গিক হতে বলুন।" প্রতীক উরের এই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কমেন্টে কটাক্ষের বন্যা।
প্রতীক উর বলেন, "শূন্য পাওয়া একটা দল....এত সিপিএম সিপিএম করলে তো মুশকিল। আগে ওদের প্রাসঙ্গিক হতে বলুন।"
২০০৮ সাল নাগাদ সরাসরি বাম রাজনীতিতে যুক্ত হন প্রতীক উর (Pratik Ur Rahaman)। অর্থাৎ দলের সুসময় তিনি দেখেছেন, তা বলা যায়। দুঃসময়েই বামেদের ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। দলের তরফেও সাধ্য মতো তাঁকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলায় সিপিএমের তরুণ নেতাদের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছিলেন। প্রায় সব আন্দোলনেই প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ঝাঁজালো আক্রমণ করেছেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে। উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন। একাধিক ভোটে তাঁকে প্রার্থী করেছে লালপার্টি। জেলা ও রাজ্য কমিটিতেও জায়গা পেয়েছেন। তা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারিতে সিপিএমের প্রতি একরাশ উষ্মা প্রকাশ করে সিপিএম ছাড়েন প্রতীক-উর। তারপরই যোগ দেন তৃণমূলে। মনে করা হচ্ছিল, বিধানসভা নির্বাচনে (Bengal Election 2026) তাঁকে প্রার্থী করবে তৃণমূল। কিন্তু তা হয়নি। তবে দল তাঁকে মুখপাত্র করেছে। প্রার্থীদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে প্রচার করছেন তিনি। আমজনতার সামনে তুলে ধরছেন রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি।
সম্প্রতি উত্তরপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রচারে গিয়েছিলেন প্রতীক উর। সেখানেই এক সাংবাদিক তোলেন সিপিএম প্রসঙ্গ। তাতেই একরাশ বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রতীক উর। বলেন, "শূন্য পাওয়া একটা দল....এত সিপিএম সিপিএম করলে তো মুশকিল। আগে ওদের প্রাসঙ্গিক হতে বলুন।" এখানেই থামেননি তিনি। বাম জমানায় চাকরি, শিল্পের বিপুল ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের হয়ে সওয়াল করেন। জানান, তৃণমূল যেভাবে তাঁকে গ্রহণ করেছে, তাতে তিনি আপ্লুত। এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই কমেন্টে কটাক্ষ করেছেন বহু মানুষ। কেউ লিখেছেন, 'আমি গিরগিটি দেখছি কিন্তু আজকে আসল গিরগিটি দেখলাম'। আবার কেউ লিখেছেন, 'আগে বল, ক'টাকায় বিক্রি হলি?'
