ছাব্বিশের বঙ্গভোটে (West Bengal Assembly Election) রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে গিয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পতন ঘটিয়ে প্রথমবার রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। দু'শোর বেশি আসনে জিতেছেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীরা। তৃণমূলের প্রাপ্ত আসন মাত্র ৮০। এখন নতুন সরকার গঠনের অপেক্ষা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের এহেন হতাশাজনক ফলাফলের পর বহু কংগ্রেস কর্মীকেই আনন্দিত হতে দেখা গিয়েছে। যদিও রাজ্যে মাত্র দু'টি আসনে তারা জিতেছে এবং নিজের গড় বহরমপুর থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতনে তাঁদের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। এই প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ক্ষুব্ধ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তিনি দলের কর্মীদেরই সতর্ক করেছেন। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডল পোস্টে রাহুলের বক্তব্য, 'তৃণমূলের পরাজয়ে কোনও কোনও কংগ্রেস কর্মী উল্লাস করছেন। এখন এসব ছোটখাটো রাজনীতি সরিয়ে রাখুন। এটা কোনও একটা দলের হার নয়। বিজেপি অসম-বাংলায় যা করেছে, তা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া।'
তিরিশ বছর পর অধীর চৌধুরীর সামনে বিধানসভায় যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু বহরমপুরে নিজের গড় থেকে তিনি ছাব্বিশের ভোটে পরাজিত হয়েছেন। সেখানে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। এরপর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। তিনি তৃণমূলের পরাজয় নিয়েই কথা বললেন। ভবানীপুর থেকে পরাজিত হওয়ার পর গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন অন্তত ১০০ আসন লুট হয়েছে। এনিয়ে অধীরের খোঁচা, ‘‘উনি এতদিন কত ১০০ আসন লুটেছেন, তার হিসেব আগে দিক। মেনে নিন যে উনি হেরে গিয়েছেন, মানুষ ওঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারপর লুটের কথা বলছেন।''
আর এরপরই রাহুলের কড়া পোস্ট। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখলেন, 'তৃণমূলের পরাজয়ে কোনও কোনও কংগ্রেস কর্মী উল্লাস করছেন। তাঁদের স্পষ্ট করে বোঝা দরকার, অসম-বাংলার এই ফলাফল বিজেপিকে গণতন্ত্র ধ্বংসে একধাপ এগিয়ে দিল। এসব ছোটখাটো রাজনীতি দূরে সরিয়ে রাখুন। এটা কোনও একটা নির্দিষ্ট দল বা কারও পরাজয় নয়। এটা গোটা দেশের ব্যাপার।' তবে কি রাহুলের নিশানায় অধীররঞ্জন চৌধুরী?
