সোমবার ভোটের ফলে সরকারের হাতবদল। সরকারিভাবে কাজ শুরু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। দিকে দিকে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতেছেন বিজেপি কর্মীরা। 'জয় শ্রী রাম' স্লোগানে রাজ্যের দিকে দিকে সেলিব্রেশন। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় পার্টি অফিস দখল করে নিয়েছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। শুধু তাই নয়, ক্ষমতায় বিজেপি আসার পর থেকেই নেতা কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে শুদ্ধিকরণের হিড়িক! কোথাও মাথা মুড়িয়ে প্রতিজ্ঞাপূরণ, কোথাও আবার গঙ্গাজলে শুদ্ধিকরণ পার্টি অফিস।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর চুল কাটলেন বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিদা গ্রামের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য সনাতন দাস। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সময় বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন সনাতন দাস। সেই সময় তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, "যেদিন বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসবে, সেদিনই মাথার চুল কাটব।" এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ১৫ বছর। সনাতন দাস জানান, "এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞা নয়, এটা ছিল দলের প্রতি আমার বিশ্বাস ও আবেগের প্রতীক। এতদিন অপেক্ষা করেছি, আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তাই প্রতিজ্ঞাও পূরণ করলাম।" পাশাপাশি গঙ্গাজলে ধোয়া হল পার্টি অফিসও।
অন্যদিকে দুর্গাপুরে মাথা মুড়িয়ে প্রতিজ্ঞাপূরণ করলেন এক বিজেপি কর্মী। তাঁর বক্তব্য, "২০২১ সালের আগে বিজেপি করার অপরাধে বাড়িতে বোমা ফেলা হয়েছিল। মারধর করা হয়েছিল। এমনকী বাড়ি ভেঙে দিয়েছিল তৃণমূলের লোকেরা। তখনই শপথ নিয়েছিলাম বাংলা থেকে তৃণমূল বিদায় হলেই মাথা ন্যাড়া করবো।" বিজেপি সরকারে আসতেই সেই কাজ সেরে ফেললেন দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানার এমএএমসি এলাকার বাসিন্দা গৌরীশঙ্কর রাজবংশী।
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে রামানন্দ কলেজের তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের ঘরে ঢুকে গঙ্গাজল দিয়ে ধুলেন বিজেপি সমর্থক ছাত্ররা। সাদা রঙে ঢাকা হলে তৃণমল ছাত্র পরিষদের দেওয়াল লিখনও।
