shono
Advertisement
TMC

পুরনো কর্মীদের সরিয়ে ফেসবুকের বিপ্লবীদের জন‌্যই এই পরিণতি! ক্ষোভ আদি তৃণমূল কর্মীদের

স্রেফ ভাবের ঘরে হাওয়ায় ভেসে রাজনীতির নামে স্টান্টবাজি করাই কাল হল, বলছেন অনেকে।
Published By: Biswadip DeyPosted: 11:49 PM May 05, 2026Updated: 11:50 PM May 05, 2026

স্টাফ রিপোর্টার: দলের শোচনীয় হার নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন আদি তৃণমূল কর্মীরা। এ নিয়ে গণনার দিন দুপুর থেকেই দলের নব‌্য তৃণমূলের একটা বড় অংশের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। ফল পুরোপুরি সামনে আসতেই দলের অভ‌্যন্তরে এ নিয়ে চর্চা শুরু হয়। তাঁদের আক্ষেপ, দলের আসল লড়াকু কর্মীদের বদলে ফেসবুকভিত্তিক নেতাদের মাথায় তোলার ফল এই হার। সিনিয়র এবং দীর্ঘদিনের একাধিক নেতার অভিযোগ, বাস্তবের মাটি থেকে দূরে সরে গিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রবণতাই তৈরি হয়েছিল স্রেফ ভাবের ঘরে হাওয়ায় ভেসে রাজনীতির নামে স্টান্টবাজি করা। নেত্রীর বার্তা, তঁার নির্দেশ বিভিন্ন মিটিং থেকে ছাত্র-যুবদের জন‌্য যা তিনি দিতেন, তার কোনওটা কোনওদিন কেউ মানেননি। তঁার লড়াইকে সম্মান করেননি। শুধু তঁার সঙ্গে ছবি দিয়ে ইমেজ ভাঙিয়ে সারা বছর তার ডিভিডেন্ড তুলেছে।

Advertisement

দলের দীর্ঘদিনের এই লড়াইয়ের সৈনিকরা বিভিন্ন মাধ‌্যমে যা মতামত সামনে রেখেছেন তাতেই তৃণমূলের ফলাফল নিয়ে একটা ধারণা স্পষ্ট হয়েছে। যেখানে চর্চায় অন‌্যতম বড় অংশ হিসাবে উঠে এসেছে তৃণমূলের ছাত্র ভোট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ছাত্র-যুব সংগঠনটাই উঠে গিয়েছে। ছাত্র বা যুব সংগঠনের সদস‌্য হিসাবে আগে কলেজ গেটে দঁাড়িয়ে রাজনীতি হত। মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে বুথভিত্তিক রাজনীতি করত। অভিযোগ, আইপ‌্যাক নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় এইসব ফেসবুক নেতাদের এখন এলাকা চেনার প্রধান ভরসা গুগল ম‌্যাপ। পাড়ার অলি-গলি চেনেন না। সেই সঙ্গে দলের রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে গিয়ে একটা বড় ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে অধিকাংশ নেতার নিজের অফিসের স্টাফদেরই রাজনীতির ময়দানে নামানো। ফলে মাটির সঙ্গে সম্পর্ক একেবারে ছিন্ন। মানুষের পালস বোঝার দক্ষতা একেবারে তৈরিই না হওয়া। এইসব পরিস্থিতি নিয়ে এক শীর্ষ নেতার রীতিমতো ক্ষুব্ধ পর্যবেক্ষণ, “যারা সিপিএমের সময় থেকে লড়েছিল তাদের বদলে স্তাবকদের সামনে আনা হয়েছে। যারা লড়াইটাই জানে না, সরকারি ক্ষমতায় থাকার দরুণ রোয়াব করেছে। আর তারাই এখন বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে ফেলেছে।”

ভোট চলাকালীনই একবার একটা জরুরি দরকারে নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেয়েছিলেন দলের এক সিনিয়র নেতা তথা প্রার্থী। তঁার আক্ষেপ, চারদিন তঁার লেগেছিল শুধু নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। তার আগে সেই রাজ‌্যস্তরের নেতার সচিবই ওই সিনিয়র নেতাকে বারবার জানান, যা বলার তঁাকে বলতে হবে। শুধু তাই না, পার্টির কাজকে ‘অ‌্যাসাইনমেন্ট’ বলে নির্দেশ আসত সচিবস্তর থেকে। কমিউনিকেশন বলতে শুধু ওইটুকুই। আর জনসংযোগের বদলে সেইসব বিভিন্ন স্তরের ‘হাফনেতাদের’ স্লো মোশনে ছবি সঙ্গে মিউডিজ দিয়ে ‘বস বস’ ধনি দিয়ে ইমেজ বিল্ডিংয়ের চেষ্টা। এই ছিল কয়েক বছর ধরে ট্রেন্ড। দলের রাজ‌্যস্তরের এক শীর্ষ নেতার আক্ষেপ, “মূল দল এবং নেত্রীর বদলে স্থানীয় নেতার অনুগামী ভিত্তিক দল তৈরি হয়ে তৃণমূলের এই অংশটাকে রীতিমতো ফ‌্যান ক্লাব বানিয়ে ফেলেছিল এই অংশ। আর সেটাই সকলের সামনে গিয়েছে। তাতে যা ক্ষতি হওয়ার হয়েছে।”

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement