বীরভূমের রাজনীতিতে এবার বিজেপির সবচেয়ে চর্চিত দুই মুখই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। একদিকে সিউড়িতে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় আর অন্যদিকে ময়ূরেশ্বরের দুধকুমার মণ্ডল। দু'জনেই হারের পরেও মাটি কামড়ে পড়ে থাকার পুরষ্কার পেলেন বিধানসভা নির্বাচনে। ২০২১ সালে নিজের কর্মজীবন থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে সিউড়ি বিধানসভায় বিজেপির তরফে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেবার সিউড়ির তৃণমূল প্রার্থী বিকাশ রায়চৌধুরীর কাছে অল্প কিছু ভোটে হার মানতে বাধ্য হলেও রাজনীতির ময়দানে হেরে যাননি জগন্নাথ। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সিউড়ির রাজনীতিতে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে থেকে নিজের পায়ের তলার জমি শক্ত করেছেন তিনি। বীরভূমের ১১টি আসনের মধ্যে ছ'টি বিজেপি ও ৫টিতে তৃণমূল জয়ী হয়েছে।
রেলমন্ত্রকের কাছে দরবার করে হাটজনবাজার রেল ওভারব্রিজের থমকে থাকা কাজ শুরু করা, সিউড়ি-শিয়ালদহ যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার জন্য মেমু এক্সপ্রেস ট্রেনের ব্যবস্থা করা, সিউড়ি রেল স্টেশনের আধুনিকীকরণের কাজ করানো এবং একেবারে হালে সিউড়ি থেকে রাজনগর হয়ে ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত রেল লাইন পাতার কাজ শুরুর প্রাথমিক ছাড়পত্র জোগাড় করেছেন। এ বার পাঁচ বছরের সেই লড়াই ফলপ্রসূ হল। তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সিউড়ির নতুন বিধায়ক হলেন জগন্নাথ। আগামীতে তিনি সিউড়ি শহর তথা বিধানসভার খোলনলচে বদলে দেবেন, এমনটাই আশা ভোটারদের।
দুধকুমার মণ্ডলের উত্থানও কম চমকপ্রদ নয়। দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর অবশেষে বিধানসভায় পা রাখতে চলেছেন বিজেপির আদি নেতা দুধকুমার মণ্ডল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সাংগঠনিক পরিসর থেকে উঠে এসে বিজেপির রাজনীতিতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন প্রবীণ নেতা।
অন্যদিকে দুধকুমার মণ্ডলের উত্থানও কম চমকপ্রদ নয়। দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর অবশেষে বিধানসভায় পা রাখতে চলেছেন বিজেপির আদি নেতা দুধকুমার মণ্ডল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সাংগঠনিক পরিসর থেকে উঠে এসে বিজেপির রাজনীতিতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন প্রবীণ নেতা দুধকুমার মণ্ডল। দীর্ঘ প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে লোকসভা পর্যন্ত লড়াই করে অবশেষে ২০২৬ সালে জয়ের মুখ দেখলেন বিজেপির দুদে নেতা দুধকুমার মণ্ডল।
১৯৮৮ সালে প্রথমবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের মাধ্যমে দুধকুমার মণ্ডল। ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবারেই জয়লাভ করেন। এরপর ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হিসেবে কাজ করেন। এরপর ১৯৯৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ফের জয়ী হয়ে ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচিত হন তিনি। ২০১১ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেন দুধকুমার মণ্ডল। ২০১৫ সালে তিনি বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জেলার সংগঠন শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাব্বিশে হলেন এমএলএ।
