সোমবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফলে শাসকের ক্ষমতা থেকে সরে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিজেপি। গণনা শেষ হতে না হতেই সোমবার রাত থেকে দিকে দিকে হিংসার খবর উঠে এসেছে। শহর থেকে জেলায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর, হামলা-মারামারি, রীতিমতো রক্তারক্তি কাণ্ড চলেছে রাতভর! এবার ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বার্তা দিলেন খোদ বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাফ জানালেন তিনি।
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে। কেউ গণ্ডগোলে জড়িত থাকলে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দল। তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর সরকারিভাবে কাজ শুরু হবে শপথগ্রহণের পরই। এই কয়েকদিনে রাজ্য প্রশাসনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এখন মুখ্যসচিবের। হিংসা রুখতে তাঁকেও কঠোর পদক্ষেপ করার বার্তা দেন শমীক।
রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা হিংসা রুখতে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালের কাছেও পদক্ষেপের আর্জি জানান শমীক। তিনি বলেন, "প্রশাসনকেও বলতে চাই, কোথাও এমন কোনও হিংসার ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নিন। কারণ, এই জন্যই বাংলার মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আমাদের যে স্বপ্ন ছিল, অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের যে স্বপ্ন ছিল, তা পূরণ হয়েছে। দলের কর্মীদের বলতে চাই, শান্তিতে থাকুন। জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত করবেন না।"
সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে মঙ্গলবার বিজেপির বিধাননগরের দপ্তরে বঙ্গ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও। হিংসা রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, মূলত তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজনীতির রঙ না দেখে হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে প্রশাসনের কাছে। রাজ্যবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে সব স্তরেই বার্তা পাঠানো হয়েছে বিজেপির তরফে।
