ছাব্বিশের ভোটবঙ্গে একাধিকবার চর্চার শিরোনামে ঠাঁই পেয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কখনও পদ্মশ্রীপ্রাপ্তির পর ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর বাড়িতে সুকান্ত মজুমদারের পদাপর্ণ নিয়ে খোঁচা দেওয়া হয়েছে, তো কখনও বা আবার পুত্র মিশুকের 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনির জন্য 'ইন্ডাস্ট্রি'র রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এবার সিনেপাড়ার অন্দরে ফিসফাস, ভোটের রেজাল্ট বেরতেই নাকি রাত-বিরেতে জয়ী রুদ্রনীল ঘোষকে ফোন করেছেন প্রসেনজিৎ! অতঃপর খবর চাউর হতেই 'ইন্ডাস্ট্রি'কে নিয়ে ফের আরেকপ্রস্থ হইচই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে টলিউডের 'জ্যেষ্ঠপুত্র' মুখ খুলতে বাধ্য হলেন।
ভবিষ্যতে সিনেইন্ডাস্ট্রির সদস্য হিসেবে সকলের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য বসবেন বলেও জানান তারকা রাজনীতিক। এরপরই একাংশ টলিউডের 'জ্যেষ্ঠপুত্র'কে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, বঙ্গে পালাবদলের রাজনীতির আবহে কি তবে 'বুম্বাদা'ও গেরুয়া শিবিরের দিকেই ঝুঁকছেন? শোরগোল শুরু হতেই নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেতা।
রুদ্রনীল ঘোষ। ফাইল ছবি
ঠিক কী ঘটেছে? অতীতে একাধিকবার সিনেপাড়ায় রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। শিবপুরের জোড়াফুলের বাগানে পদ্ম ফোটানোর পরও সেপ্রসঙ্গ টেনেই শিবপুরের হবু বিধায়ক বলেন, "টলিউডে লাগামহীন দুনীর্তি চলেছে। তৃণমূলের যা যা অন্যায় তার পক্ষে তোমায় থাকতে হবে কিংবা তাঁদের মিছিলে হাঁটতে হবে। কিংবা তোমায় মুখ বন্ধ করে টলিউডে তোমায় সব মেনে নিয়ে থাকতে হবে। এই পদ্ধতির অবসান হল।" সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ জানান, সোমরাতে টলিপাড়ার একাধিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয়েছে তাঁর। সেই তালিকায় নাকি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। ভবিষ্যতে সিনেইন্ডাস্ট্রির সদস্য হিসেবে সকলের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য বসবেন বলেও জানান তারকা রাজনীতিক। এরপরই একাংশ টলিউডের 'জ্যেষ্ঠপুত্র'কে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, বঙ্গে পালাবদলের রাজনীতির আবহে কি তবে 'বুম্বাদা'ও গেরুয়া শিবিরের দিকেই ঝুঁকছেন? শোরগোল শুরু হতেই নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেতা।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ছবি- ফেসবুক
"দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে অভিনয় করে আসছি এবং আগামীদিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ-..."
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, "আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে অভিনয় করে আসছি এবং আগামীদিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ- দয়া করে আমার গায়ে কোনও রাজনৈতিক রং লাগাবেন না।" এরপরই আসল খবর তুলে ধরেন তিনি। সত্যিই কি রেজাল্টের রাতে ভ্রাতৃসম রুদ্রকে ফোন করেছিলেন অভিনেতা? 'ইন্ডাস্ট্রি' সাফ জানান, "আমি কাউকে ফোন করিনি। বরং আমার ছোট ভাই ফোন করেছিল আমাকে। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি কেবল সেটুকুই পালন করেছি। এর সাথে রাজনীতির কোনও যোগসূত্র নেই।"
