নবান্ন থেকে নয়। মহাকরণেই ফিরছে রাজ্যপাট। বিজেপির নতুন সরকার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে মন্ত্রীদের দপ্তর থেকে সরকারি দপ্তর নিয়ে যাচ্ছে। সেজে উঠছে মহাকরণ। নবান্নের সামনে রাস্তার নিরাপত্তার কড়াকড়ি কিছুটা কমেছে ইতিমধ্যেই। আগামী দিনে কড়া নিরাপত্তা উঠে যাবে। সেই আশায় খুশি হাওড়ার শিবপুরের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের বক্তব্য, নবান্ন রাজ্যের সচিবালয় হওয়ায় শিবপুরে ভিভিআইপি যাতায়াতের কারণে প্রায়ই রাস্তা বন্ধ থাকত। স্কুলপড়ুয়া থেকে অফিসযাত্রী, সকলকেই সমস্যায় পড়তে হত।
এই প্রসঙ্গে শিবপুরের বাসিন্দা সুব্রত কুমার বলেন, “নবান্ন আসার পর থেকে এলাকা যেন বন্দি হয়ে গিয়েছিল। এবার মনে হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন ফিরবে।’’ এমনকী নিরাপত্তার কারণে বহু এলাকায় ছাদে ওঠা, গাড়ি রাখা, রাতের পর যান চলাচলেও বিধিনিষেধ ছিল বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। ফলে প্রশাসনিক সদর দপ্তর সরে যাওয়ার খবরে খুশি ব্যবসায়ী, টোটোচালক থেকে গৃহবধূ সকলেই। স্থানীয়দের আশা, এবার শিবপুরে নবান্নর জন্য থাকা ব্যারিকেড সরবে। যান চলাচল স্বাভাবিক হবে ও বহুদিন পর শিবপুর তার পুরেনো চেনা ছন্দ ফিরে পাবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরণের সংস্কারের জন্য হাওড়া শিবপুরের নবান্নে রাজ্য সরকারের সদর দপ্তরকে তুলে এনেছিলেন। সেই সময়কে অনেকেই দেখেছিলেন পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে। এক যুগ পেরিয়ে আবারও ইতিহাস যেন বৃত্ত সম্পূর্ণ করল। নবান্নের ব্যস্ত করিডর ছেড়ে ফের গেরুয়া শাসনের সচিবালয় ফিরে যাচ্ছে মহাকরণের পুরনো অলিন্দে। গত ১৩ বছরে মন্দিরতলা ও আশপাশের বাসিন্দারা চোখের সামনে দেখেছেন নবান্নের উত্থান- ১৫ তলা ভবনের ক্রমশ ব্যস্ত হয়ে ওঠা, কড়া নিরাপত্তা, আর তার সঙ্গে বদলে যাওয়া এক গোটা এলাকার জীবনযাত্রা। এখন সেই অধ্যায়ের অবসানও প্রত্যক্ষ করছেন তাঁরা।
এখন বাসিন্দারা দৈনন্দিন ঝক্কি থেকে মুক্তির স্বস্তির অপেক্ষায়। নবান্নর পার্শ্ববর্তী এলাকা বলাই মিস্ত্রি লেনের গৌরীশংকর সেনগুপ্ত, তাপস চক্রবর্তী ও সনাতন শিকদারদের মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, নবান্নর আরেকটি বড় সমস্যা ছিলো যখন বিভিন্ন সংগঠন বা রাজনৈতিক দল নবান্ন অভিযান করতো তখন। বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘‘নবান্ন অভিযান হলেই এলাকা কার্যত লকডাউন হয়ে যেত। ব্যারিকেডে বন্ধ থাকত রাস্তাঘাট। অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়ত। আশা করা যায় সেই ভোগান্তি আর হবে না।’’
একই সুর আরও স্পষ্টভাবে শোনা যায় ক্ষেত্র ব্যানার্জি লেন, হীরালাল ব্যানার্জি লেন ও শরৎ চ্যাটার্জি রোডের বাসিন্দাদের মুখে। তাঁদের বক্তব্য, বাড়ির একেবারে কাছেই নবান্ন থাকায় নিরাপত্তা ছিল ঠিকই, কিন্তু সেই নিরাপত্তার চাপে নিত্যদিনের স্বাভাবিক জীবন যেন অনেকটাই বাঁধা পড়ে গিয়েছিল। ছাদে ওঠা থেকে শুরু করে বাড়ির সামান্য মেরামত-সব ক্ষেত্রেই নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হত। অনেকেই তিনতলার উপর বৈধভাবে নির্মাণ করতে চেয়েও অনুমতি পাননি, নিরাপত্তার অজুহাতে আবেদন খারিজ হয়ে যেত।
