কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সবুজ সংকেত রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বাংলার বিজেপি সরকারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারীই। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। ফলে সবচেয়ে এগিয়ে তিনিই। বঙ্গ বিজেপির অন্যতম জনপ্রিয় মুখ শুভেন্দু অমিত শাহরও স্নেহধন্য।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? পরিষদীয় দলের নেতা কাকে করা হবে তা চূড়ান্ত করতে হবু বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করতে আজ কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দলের তরফে অমিত শাহকে দেওয়া হয়েছে। এই কাজ্যের জন্য তাঁকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। আর সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে। মঙ্গলবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিধানসভায় দলের পরিষদীয় দলনেতা বাছার জন্য শাহকে পর্যবেক্ষক করার বিষয়টি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী যিনি হবেন, তিনিই হবেন বিধানসভায় শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা। কাজেই এই দলনেতা নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই স্থির হয়ে যাবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নামও।
জয়ের পরদিনই ভবানীপুরে শুভেন্দু, অকাল হোলিতে মাতলেন বিজেপি কর্মীরা
আজ, বুধবার শাহর কলকাতায় আসার কথা রয়েছে। তবে দুপুরে নাকি রাতে আসবেন তিনি তা নিয়ে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ধোঁয়াশা রয়েছে। ফলে হবু বিধায়কদের নিয়ে আজ কিংবা কাল বৈঠক হতে পারে। তবে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য কোনও রাজ্যে অমিত শাহ পর্যবেক্ষক হয়েছেন এরকম নজির কার্যত নেই। ফলে পশ্চিমবঙ্গের পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার জন্য শাহকে দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, বাংলার জয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
অসমর্থিত সূত্রে খবর, বিজেপির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চর্চায় আরও কয়েকটি নাম শোনা যাচ্ছে। আরএসএসের তরফেও কয়েকটি নামের সুপারিশ আছে। রাসবিহারী থেকে জয়ী স্বপন দাশগুপ্তর নাম রয়েছে চর্চায়। দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর নামও ভেসে আসছে। আবার চর্চায় নাম ভাসছে দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্যেরও। তবে অমিত শাহর সিদ্ধান্ত, দু'বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই শুভেন্দু ছাড়া অন্য কোনও নাম চলতে পারে না। ফলে সব ঠিকঠাক থাকলে অঘটন না ঘটলে শুভেন্দু অধিকারীই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।
সূত্রের খবর, বিজেপির বাংলায় সরকার পরিচালনাকে কেন্দ্র করে একটা উপদেষ্টা কমিটি গঠনের কথা রয়েছে। যারা নীতি ও অভিমুখ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে গাইড করবে। বিজেপি সূত্রে খবর, ৯ মে-ই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। ওই দিন ২৫ বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। বিজেপি বাংলা ও বাঙালি বিরোধী বলে সরব হয়েছিল তৃণমূল। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সেই তকমা কাটিয়ে বেরোতেই ২৫ বৈশাখ নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করানো হতে পারে। তবে দিন মোটামুটি ঠিক থাকলেও কোথায় শপথ গ্রহণ হবে তা নিয়ে কিছুটা টানাপোড়েন রয়েছে। রাজভবনে নাকি অন্য কোথাও হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সেটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজই হয়ে যাবে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হিসাবে অনেকে ব্রিগেড ময়দানের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু হাতে সময় কম থাকায় সেখানে প্রস্তুতি নেওয়াটা সমস্যা হতে পারে। অনেকে বলছে, শহিদ মিনার ময়দানে করা হোক। কেউ আবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের প্রস্তাবও দিয়েছে। কারণ, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন-সহ বিজেপির একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। ফলে ভিভিআইপি-দের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে। তাছাড়া, রাজভবনে জায়গার সংকুলান হতে পারে। ফলে বড় জায়গায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের ভাবনাচিন্তা চলছে। সেক্ষেত্রে ব্রিগেড বা শহিদ মিনার ময়দানের কথা ভাবা হচ্ছে।
