বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরনো সংগঠকদের উপরেই ভরসা রাখা হয়েছে। তবে নৈহাটি কেন্দ্রেই তৈরি হয়েছে আলাদা রাজনৈতিক তাৎপর্য। সেখানে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'বঙ্কিমদা' সম্বোধন করে সংসদে বক্তব্য রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বক্তব্যের পর তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বাংলার মণীষীদের অপমান করছে বিজেপি। সেই অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ইস্যুতে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে তৃণমূল প্রচারে ঝড়ও তুলেছে। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই কি তাহলে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধরকে প্রার্থী করা হল? সেই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মধ্যে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সোমবার বিজেপি প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ প্রার্থী হিসেবে দেখা গিয়েছে। ঘোষিত তালিকায় বরানগরে পুনরায় সজল ঘোষ, ভাটপাড়ায় বর্তমান বিধায়ক পবন সিং, আমডাঙায় ২০১৬ সালের প্রার্থী অরিন্দম দে এবং দেগঙ্গায় দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তরুণকান্তি ঘোষকে প্রার্থী করা হয়েছে। অর্থাৎ এই চারটি ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিনের সংগঠক বা পরিচিত নেতাদের উপরেই ভরসা রেখেছে বিজেপি। কিন্তু নৈহাটি কেন্দ্রে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে। আর এই নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়তার চেয়ে ঐতিহাসিক পরিচয়কেই এখানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে বিশ্লেষকদের মত, অতীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তারপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে বিজেপি।
স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়তার চেয়ে ঐতিহাসিক পরিচয়কেই এখানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে বিশ্লেষকদের মত, অতীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তারপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে বিজেপি। সেই ঘটনাকে সামনে রেখে তৃণমূল বারবার বিজেপিকে ‘বাঙালি ও বাংলা বিরোধী’ বলে আক্রমণ করেছে। বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মভিটে নৈহাটিতে। তাঁর বংশধরকে প্রার্থী করা প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূলের দাবি, এই প্রতীকী প্রার্থী দিয়ে বাঙালির ভাবাবেগে লাগা আঘাতের প্রলেপ দেওয়া সম্ভব নয়। বরং উল্টে তা রাজনৈতিকভাবে বুমেরাং হতে পারে বলেই মত তাদের।
