নামে কী আসে যায়! তবে ভোটে একই নামে ভ্রান্তিবিলাসের আশঙ্কা রাজগঞ্জে। স্বপ্না বর্মন বনাম স্বপ্না বর্মন। ঘাসফুল নাকি ফুলকপি? দুই স্বপ্নায় গুলিয়ে ফেলছেন ভোটাররাও। এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মন এবারে জোড়াফুল শিবিরের প্রার্থী। আরেক স্বপ্না গৃহবধূ। তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে ফুলকপি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওই একই আসনে। খেলার ময়দান থেকে সরাসরি রাজনীতির অঙ্গনে। ট্র্যাক পাল্টালেও, এবারেই প্রথম রাজনীতিতে নেমে সাবলীলভাবেই খেলছেন স্বপ্না বর্মণ। তবে, তার প্রার্থীপদ ও মনোনয়ন নিয়ে
জলঘোলা ও জটিলতাও কম হয়নি। এনওসি পেতেও বিস্তর ঝক্কি পোহাতে হয় তাকে। রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরেও এনওসি পেতে হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু তাতেও সমস্যা মেটেনি। কারণ নির্বাচন কমিশনের আলাদা সার্টিফিকেটের প্রয়োজন ছিল।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার একদিন আগে সেই শংসাপত্র হাতে পান স্বপ্না। তারপর মনোনয়ন জমা করেন। মাঝে বাবার মৃত্যুতেও শোকে মুহ্যমান ছিলেন স্বপ্না। এদিকে, তাঁর সমর্থনে, রাজগঞ্জে এসে জনসভা করে গিয়েছেন খোদ তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জেতার বিষয়েও অনেকটাই আশাবাদী স্বপ্না। তবে, আরেক স্বপ্নার মনোনয়নও তাঁকে কিছুটা বিড়ম্বনায় ফেলেছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। তবে, প্রকাশ্যে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্বপ্না। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তিনি বলেন, "মানুষ জোড়াফুল ও ফুলকপির পার্থক্য জানেন। আমাদের চেহারাও আলাদা। উনি আমার চেয়ে বয়সেও বড়। সাধারণ মানুষের বুঝে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।" জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মহুয়া গোপ ও রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় প্রায় একই সুরে বলেন, "সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মণকে রাজগঞ্জের মানুষজন ভালো করেই চেনেন। তিনি সবার গর্ব। তাছাড়া, তৃণমূলের প্রতীক জোড়া ঘাসফুল। কৃষিপ্রধান ওই বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ প্রতীক নিয়ে ভুল করবেন না।"
জানা গিয়েছে, বিজেপির বিক্ষুব্ধ অংশই নাকি গৃহবধূ স্বপ্না বর্মণকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে এবারের নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে। সূত্রের খবর, রাজগঞ্জে বিজেপির বর্তমান প্রার্থী হিসেবে দীনেশ ওরফে হারাধন সরকারকে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। উপরে সেই বিক্ষোভ প্রশমিত হলেও, ভিতরে বিক্ষোভের আঁচ নেভেনি। তাঁদেরই একাংশ প্রধানপাড়ার স্বপ্না বর্মনকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করান।
জানা গিয়েছে, বিজেপির বিক্ষুব্ধ অংশই নাকি গৃহবধূ স্বপ্না বর্মণকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে এবারের নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে। সূত্রের খবর, রাজগঞ্জে বিজেপির বর্তমান প্রার্থী হিসেবে দীনেশ ওরফে হারাধন সরকারকে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। উপরে সেই বিক্ষোভ প্রশমিত হলেও, ভিতরে বিক্ষোভের আঁচ নেভেনি। তাঁদেরই একাংশ প্রধানপাড়ার স্বপ্না বর্মনকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করান। তবে, দীনেশ সরকার জানান, দলে কোনও আভ্যন্তরীণ সমস্যা নেই। কেউই বিক্ষুব্ধ নন। নির্দল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের বাড়ি রাজগঞ্জের সুখানী পঞ্চায়েতের প্রধান পাড়াতে। তাঁর স্বামী প্রসেনজিৎ বর্মন কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন এক কোম্পানিতে চাকরি করেন। নির্দল প্রার্থী হিসেবে স্বপ্না। ২০১৩ সালে রাজগঞ্জ কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। সমাজ কর্মী হিসেবে সামাজিক কাজ করার সঙ্গে যুক্ত আছেন। এখনও নিজের প্রচার শুরু করেননি নির্দল প্রার্থী স্বপ্না। তবে দুই প্রার্থীর এক নাম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে ভোটারদের মধ্যে।
নির্দল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন বলেন, "নামে বিভ্রান্তি হতেই পারে, তাই বলে নিজের প্রতীক ফুলকপি ও তৃণমূল প্রার্থীর জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে ভোটারদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।" তার আরও সংযোজন, নানা সামাজিক কাজের সঙ্গে তিনি জড়িয়ে রয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক দলে থাকলেও তিনি এ সব থেকে দূরেই ছিলেন। এলাকার অনুন্নয়ন ও সমস্যাগুলিই তাকে নির্বাচনী যুদ্ধে নামিয়েছে। তবে নামের ঠেলায় চর্চায় থাকায় বিষয়টিকে বেশ ভালোই উপভোগ করেছেন ফুলকপি প্রতীকে দাঁড়ানো নির্দল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন।
