প্রার্থী ঘোষণার পরপরই এলাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছিল! প্রার্থী বদলের দাবিও তোলা হয়েছিল একপক্ষের তরফে। কিন্তু সেই কথা কানে তোলেনি নেতৃত্ব। দিনহাটা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী পাশাপাশি গোঁজপ্রার্থী হিসেবে বিক্ষুব্ধ প্রার্থীও মনোনয়নপত্র দাখিল করে প্রতীক পেয়ে গিয়েছেন। তাহলে কি ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়াই নয়? বিজেপি বনাম বিজেপির লড়াই দেখা যাবে কোচবিহারের এই হাই ভোল্টেজ কেন্দ্রে? সেই চর্চা উঠেছে। দিনহাটা কেন্দ্রে এবারও তৃণমূলের প্রার্থী রাজ্যের বিদায়ী উত্তরবঙ্গ মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী অজয় রায়। তবে এখানে দেখা দিয়েছে টুইস্ট। কারণ, বিজেপির অপর গোষ্ঠীর হয়ে নির্দল হিসেবে ওই কেন্দ্রে ভোটে লড়ছেন বিক্ষুব্ধ অনিমেষ বর্মন।
দিনহাটার নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ভোটের আগে বিজেপির অন্তর্কলহ এভাবে প্রকাশ্যে এসে যাওয়ায় নেতৃত্বরাও প্রশ্নের মুখে। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তথা ছিটমহল আন্দোলনের অন্যতম মুখ দীপ্তিমান সেনগুপ্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। নির্দল প্রার্থী হিসেবে সেই কেন্দ্রে দাঁড় করানো হয়েছে বিজেপির বিক্ষুব্ধ অনিমেষ বর্মনকে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সেটি কমিশনের মান্যতাও পেয়েছে। দূরবীন চিহ্নে এবার তিনি লড়াই করছেন। আর এই ঘটনাই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে কোচবিহারে বিজেপির সাংগঠনিক ব্যবস্থাকে। ঘটনা জানার পরে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব শুক্রবার সন্ধ্যাতেই আলোচনায় বসেছেন বলে খবর। ভোটের আগে দ্বন্দ্ব মেটানোর জোর চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে দলের অন্দরের খবর।
গতকাল সন্ধের পরই বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তথা ছিটমহল আন্দোলনের অন্যতম মুখ দীপ্তিমান সেনগুপ্ত শহরের শহিদ কর্নার এলাকায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তাঁদের সমর্থনে বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সহ-সভাপতি অনিমেষ বর্মন ওই কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী। তিনি দূরবীন আসনে লড়াই করছেন। তিনি আরও বলেন, "বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই। লোকসভা-বিধানসভা নির্বাচনে যারা বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের কেউ হামলায় অভিযুক্ত, কারও ডাকাতিতে নাম জড়িয়েছে। দল তাঁদেরই প্রার্থী করেছে।" অজয় রায়কে প্রার্থী করার পর থেকেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে। দলকে জানিয়েও প্রার্থী বদল হয়নি। তাই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নেতা দীপ্তিমান। এই বিষয়ে খোঁচা দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।
