মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেই দাবি করেছিলেন ভ্লগে। শেষ ভ্লগ আপলোড করেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী ভ্লগার। দরজা ভেঙে ঘরের ভিতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। যদিও কী কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন যুবক, সে কারণ পরিবারের লোকজনের কাছেও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিহত যুবক মনোজ দাস। বছর ছাব্বিশের ওই যুবক জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি শহরের চার নম্বর ওয়ার্ডের পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তপন দাস ও চম্পা দাসের একমাত্র ছেলে মনোজ। ময়নাগুড়ির একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন। সোশাল মিডিয়ায় নিত্যদিন ভ্লগ করতেন। বেশ জনপ্রিয়তাও ছিল তাঁর। জানা যায়, মনোজ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভ্লগ করেন।
ভ্লগে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "ভিডিও নিয়ে তোমাদের সামনে এলাম। এখন বাজে রাত আড়াইটে। এখন আমি আমার জীবন শেষ করে ফেলব। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। কিছুদিন আগেই বলেছিলাম আমি আমার শেষ হাসিটা মৃত্যুর আগেই হাসব। অনেকদিন হয়ে গিয়েছে আমার মুখ থেকে হাসি চলে গিয়েছে। সবাই ভালো থেকো। আমাকে ক্ষমা করে দিও। কাউকে যদি কষ্ট দিয়ে থাকি, কোনও দোষ করে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। আজ থেকে হয়তো আমার এই পেজটা আমার বোন চালাবে। সবাই ভালো থেকো। সুস্থ থেকো। আর আমাকে ক্ষমা করে দিও।"
মনোজের বোন চুমকি বিবাহিত। দিনহাটায় থাকেন তিনি। শনিবার সকালে মনোজের বোন চুমকি দাসের ওই ভ্লগটি নজরে আসে। তড়িঘড়ি চুমকি তাঁর বাবা-মাকে ফোন করেন। দাদার খোঁজ নেন। চুমকির ফোন পাওয়ামাত্রই তাঁর বাবা-মা মনোজের ঘরের সামনে যান। দরজা ধাক্কা দিয়ে তাঁর কোনও সাড়াশব্দ পাননি। বাধ্য হয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন মনোজের বাবা। ঘরে ঢুকে তাজ্জব হয়ে যান তিনি। দেখেন ঘরেই ঝুলছে মনোজের দেহ। খবর দেওয়া হয় ময়নাগুড়ি থানায়। পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও ততক্ষণে সব শেষ। চিকিৎসকরা জানান, মনোজের মৃত্যু হয়েছে। ঠিক কী কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ছেলে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর পরিবারের লোকজন।
