খুন হওয়া স্বামীর বিচারের দাবিতে সেই ২০০০ সালে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। তৃণমূলের সঙ্গে আন্দোলন করেই প্রথম বামেদের শক্ত ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিলেন। তারপর টানা তিনবার তৃণমূলের হয়ে বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে শাসকদল তৃণমূলের টিকিট পেয়েছেন দলের ছাত্র সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে। আর তাতেই অপমানিত হয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নোয়াপাড়ার প্রবীণ বিধায়ক মঞ্জু বসু। অন্য দলে যাচ্ছেন? এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
২০০০ সালের ১ এপ্রিল খুন হয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৎকালীন তৃণমূল সভাপতি বিকাশ বসু। সেই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে যায়। স্বামীর মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে সেসময়ের বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে রাজনীতির ময়দানে নামেন বিকাশবাবুর স্ত্রী মঞ্জু বসু। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে বামেদের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।
২০০০ সালের ১ এপ্রিল খুন হয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৎকালীন তৃণমূল সভাপতি বিকাশ বসু। সেই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে যায়। স্বামীর মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে সেসময়ের বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে রাজনীতির ময়দানে নামেন বিকাশবাবুর স্ত্রী মঞ্জু বসু। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে বামেদের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। এরপর থেকে শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, স্বামীর হত্যার বিচার পাওয়ার দাবিতে। ২০০১ সালের পর আবার ২০১১ এবং ২০২১ - তিনবারের বিধায়ক হয়ে তিনি নোয়াপাড়া কেন্দ্রের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হন। শুধু তাই নয়, জনসংযোগ থেকে শুরু করে কাজ - সবক্ষেত্রেই নিজের সাফল্য তুলে ধরেছিলেন মঞ্জু বসু।
২০০০ সালে খুন হন তৃণমূল নেতা বিকাশ বসু। তারপরই স্ত্রী মঞ্জুর রাজনীতিতে আসা। ফাইল ছবি
তবে সম্প্রতি দলের সঙ্গে মঞ্জুদেবীর নিবিড় সম্পর্কে খানিকটা চিড় ধরে। প্রথমত, বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক 'সেবাশ্রয়' শিবিরের আয়োজন করলে সেখানে মঞ্জু বসুকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাতে কিছুটা অভিমান হয় তাঁর। এরপর চলতি মাসের শুরুতে ধর্মতলায় এসআইআর বিরোধিতায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে প্রণাম করতে উঠলে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাতেই ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে। তুমুল অপমানিত বোধ করেন মঞ্জু বসু। তাঁর অভিযোগ, “যেভাবে জনসমক্ষে আমাকে অপমান করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যদি আগে জানতাম প্রার্থী করা হবে না, তবে অনেক আগেই দল ছেড়ে দিতাম।”
এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীতালিকা প্রকাশ হলে সেখানে আর দেখা যায়নি মঞ্জু বসুর নাম। ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “স্বামীর মৃত্যুর বিচার পেতে লড়াই করেছি এতদিন। কিন্তু সর্ষের মধ্যেই ভূত থাকলে বিচার পাওয়া কঠিন।” রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা - তৃণমূলের একসময়ের লড়াকু মুখ মঞ্জু বসুর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, সেদিকেই এখন নজর সবার।
