মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে বাংলায় এক দফায় ভোটের দাবি বিরোধীদের। দামামা বেজে গিয়েছে বঙ্গ ভোটের, অপেক্ষা এখন শুধুই নির্ঘণ্ট ঘোষণার। তার আগে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুরু হয়েছে বৈঠক। আর সেই বৈঠকে এক দফায় ভোটের দাবি জানাল সিপিএম। একই দাবি জানিয়েছে বিজেপিও। অন্যদিকে একজন বৈধ ভোটারেরও যাতে নাম বাদ না যায়, সেই দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।
এদিন বৈঠকের শুরুতেই বিজেপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন তাপস রায়, শিশির বাজোরিয়া, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ বৈঠক শেষে শিশির বাজোরিয়া সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ''রাজ্য পুলিশের ভূমিকায় আমরা অসন্তুষ্ট। এই অবস্থায় প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় যাতে ভোট হয় সেই দাবি জানানো হয়েছে।''
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপি নেতা। বলেন, বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এলেও দেখা যাচ্ছে না। রুট মার্চ করানো হচ্ছে না। তা যাতে কমিশন নজরে রাখে সেই দাবিও ফুলবেঞ্চকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিশির বাজোরিয়া। এছাড়াও প্রত্যেক বুথে ওয়েব ক্যামেরা-সহ সমস্ত ব্যবস্থা থাকে সেই দাবি জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচন যাতে খুব বেশি দফায় না করা হয় সেই দাবিও বিজেপির প্রতিনিধি দল কমিশনকে জানিয়ে এসেছে। বিজেপি চায়, বঙ্গে ৭-৮ দফার পরিবর্তে সর্বাধিক ১ বা ২ দফায় নির্বাচন করা হোক।
অন্যদিকে এদিন সেলিমের নেতৃত্বে কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন বাম প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলায় একদফায় ভোটের দাবি তাঁরা জানিয়েছেন বলে জানান মহম্মদ সেলিম। সর্বোচ্চ দু'দফায় ভোট করানো হলেও যে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই তাও এদিন কমিশনকে জানিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন বর্ষীয়ান এই বামনেতা। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সেলিম বলেন, ''যে ৬০ লাখ বিচারাধীন নাম রয়েছে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। আর তা করেই সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এমনকী যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁদেরকে ফের সুযোগ দিতে হবে বলেও ফুলবেঞ্চকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেলিম।
এসআইআর নিয়ে সংঘাতের আবহেই এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মুখোমুখি হয় শাসকদল তৃণমূল। বৈঠকে অংশ নেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজীব কুমার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা বলেন, নিরপেক্ষা সংস্থা হিসাবে নির্বাচন কমিশনের উপর বিশ্বাস রাখি। কিন্তু তা সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে না। যে সমস্ত অভিযোগ উঠছে, সেগুলি মেটানোর কোনও ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।'' এমনকী ফর্ম ৬ এবং ফর্ম ৭-এ তথ্য বিভ্রাট নিয়েও সরব হন রাজ্যের মন্ত্রী। পাশাপাশি কোনও বৈধ ভোটার যাতে বাদ না পড়ে তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে বলেও জ্ঞানেশ কুমারকে জানিয়ে এসেছেন বলেও জানিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
