মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। সোমবার নিউটাউনে কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম ও রাজীব কুমার। ওই বৈঠক সেরে বেরিয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন চন্দ্রিমা। কোনও কথা না শুনে শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শুধু চিৎকার করে গিয়েছেন বলেই দাবি তাঁর।
কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম ও রাজীব কুমার। ৯ মার্চ। নিজস্ব চিত্র
সোমবার বেলা ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বৈঠকের শুরুতেই যাতে একজন বৈধ ভোটারেরও নাম বাদ যেন না যায়, সে আর্জি জানান শাসক শিবিরের প্রতিনিধি চন্দ্রিমা। তাঁর অভিযোগ, এসব কথা শুনতে চাননি জ্ঞানেশ। কথায় বলেন, "উনি একাই কথা বলেন। বললেন। কিছুক্ষণ পর ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন। চেঁচাচ্ছেন। বলছেন আপনারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। আর কিছু বলার নেই। অন্য জায়গায় সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া অপরাধ নাকি? আমাদের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার আছে। আমি একজন মহিলা। আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট। আমি বললাম, কীভাবে বলছেন আপনি? তার মানেই বোঝা যাচ্ছে মহিলাদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই। তার জন্য মহিলাদের নাম বাদ দিচ্ছেন।" ফর্ম ৭ নিয়ে তথ্যগত গরমিলের অভিযোগও তোলেন চন্দ্রিমা। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমার আরও অভিযোগ, "আমাদের কথা শুনতে রাজি নন। খালি বলছেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। বেশ করেছি গিয়েছি। আমার অধিকার, বাংলার মানুষকে ঠিক রাখার অধিকারে গিয়েছি। মহিলাদের প্রতি চেঁচানো? আপনি দেখে নেবেন এরপর কী হয়।"
বৈঠক থেকে বেরিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিমও। বলেন, "বিজেপি ধারণা তৈরি করেছে এখানে অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা রয়েছে। ক'জনকে খুঁজে বের করতে পারলেন? শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হল। হাজার হাজার মানুষকে অযথা লাইনে দাঁড় করালেন। আপনার বিজেপির কথা শুনে ভুল হয়ে গিয়েছে। আপনি বলতে পারবেন আই অ্যাম রং। তবে দেখবেন একজন ভারতীয় নাগরিকেরও যেন ভোটদানের অধিকার যেন খর্ব না হয়। বাংলার সর্বনাশ করেছে বিজেপি। নিরীহ মানুষ যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মৃত্যুর কারণ ওরা।" তিনি আরও বলেন, "সুপ্রিম কোর্টে অধিকার রক্ষা করতে গিয়েছি। আদালতে যাওয়ার আগে বারবার আপনার কাছে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। গুরুত্ব দেননি।" এদিন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন বাম, বিজেপি এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও। তাঁরা এক কিংবা দু'দফায় ভোটের দাবি জানান।
