ধর্ম যার যার উৎসব সবার! বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে সেকথা শোনা গিয়েছে। তাঁকে দুর্গাপুজো থেকে ইদ আবার ক্রিসমাসেও মেতে উঠতে দেখা যায়। সেকথাকেই পাথেয় করে এগিয়ে চলেছেন তাঁর দলের 'সৈনিকে'রা। রামনবমীতে ঠিক একইভাবে ঘাটালের কুচপাতার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠানে মাতলেন তারকা সাংসদ দেব। রামনবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর গলায় শোনা গেল 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি। তবে যেন কেউ ধর্মের রাজনীতি না করে সে বার্তাও দিলেন দেব। তাঁর কথায়, "এটা কোনও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়। ঘাটাল এমন একটা শহর যেখানে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, আত্মীয়তা, ভদ্রতা আছে। আমি ঘাটালের সাংসদ হিসাবে গর্ববোধ করি। কারণ, আমরা এখানে সমস্ত উৎসব যেভাবে পালন করি তাতে আমি গর্বিত।" আগামী বছরেও ফের রামনবমীর উৎসবে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশও করেন দেব।
ঘাটালে রামনবমীর অনুষ্ঠান মঞ্চে দেব। নিজস্ব চিত্র
এদিন স্বাভাবিকভাবেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে ফের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দেব। তিনি বলেন, "বন্য়া থেকে বাঁচানোর জন্য প্রথমে রুটম্যাপ তৈরি করা হয়। সেখানে অধিকাংশ জমি, বাজার চলে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর আবার নতুন করে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত করতে অনেক জমি লাগবে। সহযোগিতা লাগবে। তাড়াহুড়ো করে কাজ চলছে। তবে কাজ এগিয়েছে। চোখে দেখা যাচ্ছে।" বিজেপিকে দুষে তারকা সাংসদ আরও বলেন, "এক পয়সা যদি বিজেপি দিত সাপোর্ট করতাম। ২০১৪ সাল থেকে আমি সাংসদ। প্রচুর বড় নেতা আছে বিজেপির। একটা চিঠি লিখেছে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি। আমি যেদিন রাজনীতি ছাড়ছিলাম সেদিন বলেছিলাম ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কোনও রাজনীতি নয়। সাধারণ মানুষের জন্য দরকার। চব্বিশে আমি আবার রাজনীতিতে ফিরে এসেছি শুধুমাত্র একটাই শর্ত ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান যেন রাজ্য সরকার করে। সেই মতো মমতা, অভিষেক এসে কথা দিয়ে গিয়েছে। কাজও শুরু হয়েছে।"
পাঁশকুড়া-ঘাটালের রাস্তা সম্প্রসারণ নিয়েও মুখ খোলেন তারকা সাংসদ। তিনি বলেন, "পাঁশকুড়া-ঘাটালের রাস্তা নিয়েও কিছু করেনি। আমি কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় সেই ছবিও শেয়ার করে। আজকে সেখানে ডবল লাইন হাইওয়ে হয়ে গিয়েছে।" তাঁর মতে, "যে কাজ করে তার ভয় নেই। যে কাজ করে না তাদের ভাবতে হয় কীভাবে ভোট আদায় করবে। কীভাবে মানুষকে ভয় দেখাবে।" ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, "আমরা প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করি না। প্রতিশ্রুতির ললিপপ ঝুলিয়ে রাজনীতি করি না। যদি ঘাটালে তৃণমূল ভোট না পায় তাহলে রাজনীতি জিতে যাবে। যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁরা হেরে যাবেন।"
