নির্বাচনের আবহে এবার প্রচারে নেমে চা বিক্রেতার ভূমিকায় রায়দিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্কুলশিক্ষক তাপস মণ্ডল। চা বানিয়ে রীতিমতো ক্রেতাদের পরিবেশনও করেন তিনি। অন্যদিকে ময়দানে নামলেও কার্যত রংহীন সিপিএম ও বিজেপির প্রচার কর্মসূচি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রচারে অভিনবত্ব এনে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিতে চাইছেন তাপস।
এদিন রায়দিঘি বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। প্রার্থী হিসেবে এবার তিনি তৃণমূলের নতুন মুখ । গতবারের জয়ী প্রার্থী অলোক জলদাতার পরিবর্তে তাঁকে প্রার্থী করেছে দল। এদিন প্রচার চলাকালীন তাপস তেলিপুকুর এলাকায় রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানে সটান ঢুকে চা বানানো শুরু করেন। এরপর নিজে হাতে উপস্থিত ক্রেতাদের চা ও বিস্কুট বিক্রি করেন তিনি। চা তৈরির ফাঁকে তৃণমূল প্রার্থী ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতাও সারেন। শোনেন তাঁদের অভাব অভিযোগের কথা। রায়দিঘি কেন্দ্রে তাঁকে ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যে চতুর্থবার ক্ষমতায় আসছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে অভিনবত্ব দেখা গেলেও সিপিএম ও বিজেপির প্রচার কর্মসূচিতে কোনও চমক লক্ষ্য় করা যায়নি। রায়দিঘির বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা সোমবার নালুয়ায় হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন। এরপর কার্যকর্তা বৈঠকে অংশ নেন তিনি। এলাকায় বাইক র্যালির মাধ্যমে তিনি জনসংযোগ করেন। অন্যদিকে, রায়দিঘিতে সিপিএম প্রার্থী সাম্য গাঙ্গুলী এদিন কুমড়োপাড়া, কৌতলা ও নন্দকুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে কর্মিসভা করেন।
সোমবার তৃণমূল প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার কৌশলের অভিনবত্ব উপভোগ করেন সেইসময় চায়ের দোকান সংলগ্ন এলাকায় উপস্থিত মানুষজন। পথচলতি অনেকে বিষয়টি নিয়ে বেশ কৌতূহলী হয়ে পড়েন। শুধু চায়ের দোকানে জনসংযোগই নয়, তৃণমূল প্রার্থী এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালান। প্রচারে বেরিয়ে এলাকার দোকানদার, ভ্যানরিকশা ও অটোচালক এবং পথচলতি মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। কাশীনগরের শংকরপুর পুরকাইতের চক ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় জোরকদমে চলে তৃণমূল প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তাপস অলিতে-গলিতে ঘুরে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদার কথা শোনেন। পাশাপাশি এলাকায় আরও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
