রোটি-কাপড়া-মকান। একসময় এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখে চলত ভোট (WB Assembly Election 2026) প্রচার। যদিও বর্তমানে ধরন বদলেছে ভোটপ্রচারের। ভোটারদের মন জয় করতে একেক প্রার্থীর একেক কৌশল। কেউ নেমেছেন চাষের জমিতে, কেউ সোজা ঢুকে পড়ছেন গৃহস্থের হেঁশেলে। হুগলির পুরশুড়ায় তৃণমূল প্রার্থীকে এই রূপেই দেখা গেল। অভিনব প্রচারের মাধ্যমে তাঁদের কৌশলী বার্তাও দিচ্ছেন প্রার্থীরা। মাঠে বাদাম তোলা, রান্নাঘরে রুটি বেলার পর এবার গৃহস্থের হেঁশেলে ঢুকে শিল-নোড়া দিয়ে মশলা বাটলেন পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি! এখানেই শেষ নয়, গৃহকর্ত্রীকে রান্নাতেও সাহায্য করলেন, ভাজলেন ভেন্ডি।
প্রার্থী পার্থ হাজারির দাবি, গ্যাসের দামবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ কাঠের চুলায় রান্না করছেন। তাই তাঁদের কষ্ট লাঘব করতে তিনি মশলা বেটে সহযোগিতা করেছেন। প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বর্তমানে গ্যাসের সঙ্কটে ভুগছে গোটা দেশ। এরাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়। গ্যাস না পেয়ে আবারও গৃহস্থের রান্নাঘরে পুরনো পন্থা ফিরছে। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে কাঠের চুলায় হাত পুড়িয়ে রান্না করছেন। প্রচারে গিয়ে অধিকাংশ মানুষকে আঁচের উনুনে বা কাঠের চুলায় রান্না করতে দেখছেন পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী। ঘরের মা-বোনেদের কষ্ট করে রান্না করতে দেখে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে জানালেন।
প্রচারে বেরিয়ে রুটি বেললেন তৃণমূল প্রার্থী। রবিবার, পুরশুড়ায়।
এর আগে রবিবার প্রচারে বেরনো তৃণমূল প্রার্থীকে গেরস্থের রান্নাঘরে ঢুকে রুটি বেলতে দেখা গিয়েছিল। এদিন প্রচার চলাকালীন এক বৃদ্ধের বাড়িতে ঢুকে শিলনোড়ায় মশলা বেটে দিলেন। তারপর সেই মশলা দিয়ে রান্নাতেও সহযোগিতা করেন। বিরোধীরা এই বিষয়টি 'নাটক' বলে কটাক্ষ করলেও তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, এভাবেই তিনি কেন্দ্রীয় জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদ করছেন। গ্যাসের সংকটে সাধারণ মধ্যবিত্তদের নাজেহাল অবস্থা। তাই মানুষের অসুবিধায় তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আগেও মানুষের জন্য কাজ করে এসেছি। আগামী দিনেও এভাবেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। ভোটার পাশে থাকার বার্তা দিতেই সাংসারিক কাজে সহায়তা করছি। এর বেশি কিছু না।
পার্থবাবু বলেন, ''কেন্দ্র দিনের পর দিন বাংলাকে বঞ্চনা করছে। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের লাগাতার চাপের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের জন্য লড়াই করে চলেছেন। আমরা তাঁদের সৈনিক হয়ে সেই পথেই সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। বিগত পাঁচ বছরে পুরশুড়ার মানুষ বিজেপি বিধায়ককে কাছে পায়নি। মানুষ ভুল বুঝতে পেরেছেন। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তাই পুরশুড়ায় তৃণমূলের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।''
