সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: উনিশ বছরের চেষ্টায় স্বপ্নপূরণ হল? ১০ কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর সায়ত্রিশ বছর বয়সে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন হরিয়ানার এক মহিলা। দুই দশক ধরে একের পর এক গর্ভধারণ এবং একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রসবের পরে এই শিশুর জন্ম ঘিরে পরিবারে খুশির আবহ। যদিও ২০২৫ সালেও হরিয়ানায় পুত্র সন্তানের প্রতি সামাজিক প্রবণতার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
হরিয়ানার ফতেহাবাদ জেলার ভুনা ব্লকের ধনি ভোজরাজ গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার ও সুনিতা কুমার। বিয়ের পর তাঁরাও অন্য দম্পতিদের মতোই সন্তান কামনা করেছিলেন। তবে তাঁদের ইচ্ছে ছিল পুত্রসন্তানের বাবা-মা হওয়ার। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে উনিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে বারবার ১০ বার কন্যাসন্তানেরই মা হয়েছেন সুনীতা। এরপরেও হাল ছাড়েননি যুগল! শেষ পর্যন্ত নতুন বছরে গত ৪ জানুয়ারি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন সায়ত্রিশ বছরের মহিলা। অর্থাৎ দম্পতির মোট সন্তানের সংখ্যা ১১।
পেশায় দিনমজুর সঞ্জয়ের এগারোটি সন্তান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভাবের সংসার কীভাবে সামাল দেন যুগল? সঞ্জয়ের বক্তব্য, ‘‘এটা আমার একাদশ সন্তান। ঈশ্বর যা দিয়েছেন, তাই মেনে নিয়েছি। মেয়েরাও খুব খুশি যে তাদের ভাই হয়েছে।’’ দশ কন্যা সন্তানের পড়াশোনা করানোর চেষ্টা করছেন সঞ্জয়। বড় মেয়ে সরিনা পড়ছে দ্বাদশে, অমৃতা একাদশে, একে একে সুশীলা সপ্তমে, কিরণ ষষ্ঠে, দিব্যা পঞ্চমে, মন্নত তৃতীয়তে, কৃতিকা দ্বিতীয়তে এবং অমনীশ প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। সকলেই স্কুলে যায় বলে দাবি সঞ্জয়ের।
নবম কন্যা লক্ষ্মী ও দশম কন্যা বৈশালীর পর পরিবারে এসেছে পুত্র সন্তান। নতুন সদস্যের আগমনে গোটা পরিবার খুশি। দিদিরা মিলেই ভাইয়ের নাম রেখেছে 'দিলখুশ'। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে দেখা গিয়েছে, দশ মেয়ের নাম মনে করতে পারছেন না সঞ্জয়। স্বভাবতই পিতৃতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সঞ্জয় অবশ্য তা মানতে রাজি নন। তিনি বলেছেন, মেয়েদের প্রতি তাঁর কোনও বৈষম্য নেই। সত্যিই কী তাই? তাহলে ১৯ বছরের অপেক্ষা কেন?
