রঙের উৎসবে বারাণসীর বিখ্যাত খেলা ‘মাসান হোলি’ বা ‘মাসানে কি হোলি’। বাবা মাসান নাথ মন্দিরের প্রাঙ্গণে এই খেলায় মেতে ওঠেন অঘোরীরা। সারা দেশ যখন আবির-জলরঙে ব্যস্ত, বারাণসীর মাসান হোলিতে তখন ব্যবহার হয় শ্মশানের ছাই! এমন খেলার আয়োজকদের বরাবরের দাবি, মাসান হোলির সূচনা প্রায় একশো বছর আগে! কথিত আছে, রঙভরি একাদশীতে মা পার্বতীকে নিয়ে গৃহে ফেরেন মহাদেব। এ উপলক্ষ উদযাপনে হোলি খেলায় মাতে ভক্তকূল। মৃতদেহের ছাই-ই হয়ে ওঠে খেলার মূল উপজীব্য। সে খেলায় অংশ নেয় ভূতপ্রেত, পিশাচ, কিন্নর, যক্ষ, গন্ধর্ভ ও মানুষ।
আয়োজকদের দাবি, মসান দোলির সূচনা প্রায় একশো বছর আগে!
অবশ্য সমালোচকদের মতে, তেমন ভারিক্কি কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি বাস্তবে নেই! গত বেশ কয়েক বছর ধরে নির্বিবাদে এই ছাইয়ের হোলি খেলা চললেও এবছর তাতে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে বলেই জানাচ্ছে সূত্র। বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয় এই মাসান হোলি। অনেকেই বহুদূর থেকে এই দোলখেলা দেখতে ভিড় করেন। সে ভিড়ে থাকে আগ্রহী জনতা থেকে শুরু করে ভিনদেশি ফোটোগ্রাফার ও সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সররাও। বিগত বছরগুলির সমীক্ষা জানাচ্ছে, মসান হোলির দিন মানুষের সংখ্যা ঠেকে যায় প্রায় চার লাখে! আর তাতেই বেধেছে বিপত্তি।
প্রাথমিকভাবে কেবল বাবা মাসান নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে খেলা চললেও বর্তমানে তা ছড়িয়ে পড়েছে গঙ্গা তীরবর্তী মণিকর্ণিকা ঘাটে। যার জন্য সবচাইতে বেশি ভোগান্তি পোয়াতে হয় শশ্মানে প্রিয়জনকে দাহ করতে আসা মানুষদের। ছাইমাখা মদ্যপ জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে প্রশাসনের পক্ষেও। আর এসবের মধ্যে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষেত্রবিশেষে ৫-১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়!
বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয় এই মসান হোলি
সূত্র জানাচ্ছে, কাশির ডোম সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ডোম রাজার পরিবারের বর্তমান সদস্যরাই এমন হোলিতে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছেন। মণিকর্ণিকা ও হরিশ্চন্দ্র ঘাটে মৃতদেহ দাহ করতে সমস্যা হচ্ছে, তাই মাসান হোলি সীমাবদ্ধ রাখা হোক বাবা মসান নাথ মন্দির প্রাঙ্গণেই, আবেদন তাঁদের। তাছাড়া শ্মশান এলাকায় দোলখেলার মতো আনন্দ-উৎসব নিতান্তই দৃষ্টিকটু, মনে করেন তাঁরা।
ছাইমাখা মদ্যপ জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে প্রশাসনের পক্ষে!
প্রশাসনের তরফে যদিও এমন কোনও আবেদনপত্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও প্রশ্ন থেকে যায়… শতাব্দী-প্রাচীন হোক বা না হোক, যেকোনও স্থানীয় উদযাপনের যে নিজস্ব ঐতিহ্য, তা কি তবে এমনভাবেই ক্ষুণ্ণ হয়ে চলবে কেবলমাত্র সোশাল মিডিয়ার আগ্রাসনের জন্য?
