shono
Advertisement
holi

রঙের উৎসব মানেই ভাঙ, সব পানীয় ছেড়ে কেন দেশজুড়ে এই শরবতকেই বেছে নেওয়া হয়?

এই শীতল পানীয় নাকি প্রাণ জুড়ানোর পাশাপাশি মনকে শান্ত করে। কখনও বা বাড়তি আনন্দের অনুভূতিও জাগায়। হিন্দি হোক বা বাংলা সিনেমা, রংখেলার মাঝে ভাঙের গ্লাসে চুমুক দিয়ে মত্ত নায়ক-নায়িকা, বহু সময়েই এমন দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 06:22 PM Mar 02, 2026Updated: 06:22 PM Mar 02, 2026

‘হোলি হ্যায়!’ রঙের উৎসবে মেতে উঠতে চলেছে দেশ। হাওয়ায় আবীরের গন্ধ। পিচকারি হাতে তুমুল হুল্লোড় ছোটদের। রং খেলায় বড়রাও কম যায় না। তাদের বেশিরভাগের দোল অবশ্য শেষ হবে এক ইয়াব্বড় গেলাস ভর্তি ঠান্ডাইতে চুমুক দিয়ে। আর সে পানীয়তে যদি মেশানো থাকে ভাঙ, তবে উৎসবের আনন্দ চড়বে আর এক পরত।

Advertisement

কোথাও সগৌরবে, কোথাও বা সামান্য রাখডাক মেনে ভাঙ মেশানো ঠান্ডাই পান করা হয় রঙের উৎসবের দিন দুই। শীতকাল বিদায়ের পথে। বাতাসে বাড়ছে আর্দ্রতা। এমন দিনে এই শীতল পানীয় নাকি প্রাণ জুড়ানোর পাশাপাশি মনকে শান্ত করে। কখনও বা বাড়তি আনন্দের অনুভূতিও জাগায়। হিন্দি হোক বা বাংলা সিনেমা, রংখেলার মাঝে ভাঙের গ্লাসে চুমুক দিয়ে মত্ত নায়ক-নায়িকা, বহু সময়েই এমন দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু এই বিশেষ পানীয়টির সঙ্গে ঠিক কীভাবে যুক্ত রঙের উৎসব, জানেন কী?

রংখেলার মাঝে ভাঙের গ্লাসে চুমুক দিয়ে মত্ত নায়ক-নায়িকা!

কথিত রয়েছে, সতী হারানোর বেদনায় যখন মুহুর্মুহু বাস্তবজ্ঞান হারিয়ে ধ্যানস্থ হয়ে পড়ছেন মহাদেব, তখন তাকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনতে কামদেবের দ্বারথ হন মাতা পার্বতী। ভাঙ মিশ্রিত এক বাণে মহাদেবকে বিদ্ধ করেন কামদেব। ফলস্বরূপ পার্বতীর প্রতি আগ্রহী হলেন স্বামী, ভক্তকুল রঙের উৎসবে মাতল এই আনন্দ উদযাপন করতে।

যদিও এমন কাহিনীর বেশিরভাগটাই লোকমুখে প্রচলিত। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, হয়তো ভাঙ খাওয়ার সপক্ষে যুক্তি খুঁজতেই এহেন কাহিনীর অবতারণা। কারণ শিব পুরাণ মতে, কামদেব মাতা পার্বতীর কথা মেনে মহাদেবকে বাণে বিদ্ধ করেন ঠিকই। কিন্তু তাতে ভাঙ মিশ্রিত থাকার উল্লেখ মেলে না। তাছাড়া, ধ্যানভঙ্গের ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন দেবাদিদেব এবং তাঁর তৃতীয় চক্ষু দিয়ে কামদেবকে ভস্ম করে দেন! ফলে ভক্তদের আনন্দ উদযাপনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

ভাঙ মেশানো ঠাণ্ডাই পান করা হয় রঙের উৎসবের দিন দুই

হোলি ছাড়াও শিবরাত্রিতে প্রায়শই ভাঙ পানের চল দেখা যায়। মূলত অবাঙালিরা ভাঙ মেশানো ঠান্ডাই পান করেন এদিন। ভাঙ ছাড়াও এই লস্যি-জাতীয় পানীয় প্রস্তুত ও পান করা যায়। বাঙালিরা সাধারণত ভাঙের শরবত বলেন এই পানীয়কে, যদিও বর্তমানে উত্তর ভারতীয় ঠান্ডাই-স্টাইলে তৈরির চলই বেশি। এছাড়াও উত্তরাখণ্ডের হোলি-যাপন হয় ভাঙের পকোড়া, ভাঙের চাটনি দিয়ে!। সাম্প্রতিককালে আবার সে তালিকায় নাম লিখিয়েছে ভাঙের পেঁড়া ও ভাঙের ব্রাউনি! অর্থাৎ নেশায় মাতলেও তার মাত্রা কতখানি হবে, তা নির্ধারণের সুযোগ থেকে যায়!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement