কথায় বলে, প্রেম বাধা মানে না। কাঁটাতার পেরিয়ে, সমাজের বেড়াজাল পেরিয়ে যুগে যুগে তৈরি হয়েছে বহু প্রেমকাহিনি। এবার দেখা গেল, জেলের গারদও মানে না প্রেম। খুনের মামলায় দুই অভিযুক্ত জেলের অন্ধকারেই খুঁজে নিলেন জীবনসঙ্গী। এমনকি তাঁদের বিয়ের জন্য মঞ্জুর হয়ে গেল প্যারোলও।
এই 'খুনে' প্রেমকাহিনি শুরু হয় রাজস্থানের আলওয়ারে। সেখানকার জেলে বন্দি ছিলেন প্রিয়া ওরফে নেহা শেঠ। ডেটিং অ্যাপে পরিচয় হওয়া এক ব্যক্তিকে খুনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, ওই জেলেই ছিলেন পাঁচজনকে খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া হনুমান প্রসাদ। মাসছয়েক আগে সাংনার ওপেন জেলেই সাক্ষাৎ হয় দু'জনের। প্রথম দেখাতেই প্রেম। দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন প্রিয়া এবং হনুমান। সবমিলিয়ে ৬জনকে খুন করেছে এই যুগল।
জানা গিয়েছে, পেশায় মডেল ছিলেন প্রিয়া। ২০১৮ সালে ডেটিং অ্যাপ দুষ্মন্ত শর্মা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। দুষ্মন্তকে অপহরণ করে টাকা হাতানোর ছক কষেন প্রিয়া। সেই টাকা দিয়ে তৎকালীন প্রেমিকের ঋণ মেটানোর পরিকল্পনা ছিল। ছক অনুযায়ীই নিজের ফ্ল্যাটে দুষ্মন্তকে ডেকে আনেন প্রিয়া। তারপর ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কিন্তু দুষ্মন্তের বাবা ৩ লক্ষ টাকার বেশি জোগাড় করতে পারেননি। সেই রাগ থেকেই প্রিয়া এবং তাঁর তৎকালীন প্রেমিক খুন করেন দুষ্মন্তকে। পরে ফ্ল্যাট থেকেই গ্রেপ্তার হন প্রিয়া। খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সন্তোষ নামে এক ক্রীড়াবিদের সঙ্গে প্রেম ছিল হনুমানের। ২০১৭ সালে সন্তোষের অনুরোধেই তাঁর স্বামীকে খুন করেন হনুমান। সেই হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলে সন্তোষের তিন সন্তান এবং ভাগ্নে। হনুমান তাদেরও খুন করে। একরাতে মাংস কাটার ছুরি দিয়ে মোট পাঁচজনকে হত্যা করে হনুমান। গোটা ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় আলওয়ার জুড়ে। পরে হনুমানকেও দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। কিন্তু মাসছয়েক আগে ভয়ংকর দুই খুনির সাক্ষাৎ হয় জেলের মধ্যে। এখন তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেকারণে রাজস্থান হাই কোর্ট দু'জনের ১৫ দিনের প্যারোল মঞ্জুর করেছে।
