চাকরির ইন্টারভিউতে যাওয়ার সময় কার সঙ্গে যেতে পছন্দ করেন? এ নিয়ে অনেকের মত অনেকরকম। চাকরির ইন্টারভিউ অনেকের কাছেই জীবন-মরণের সওয়াল। ফলে সঙ্গে যাওয়ার জন্য তারা বেছে নেয় এমন কাউকে, যে ভরসার যোগ্য। কোনও কাছের বন্ধু বা আত্মীয়ই হয়তো এমন সময় পাশে থাকতে পারে। আবার, কেউ কেউ মনে করেন চাকরির ইন্টারভিউ একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। ফলে কাউকেই সঙ্গে না নিয়ে, একা একাই যাওয়াই পছন্দ করেন তারা।
কিন্তু সব ছেড়ে, সবাইকে ছেড়ে, বাবা-মাকে নিয়ে চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে যায় কি কেউ? সমীক্ষা জানাচ্ছে, যায় বৈকি! বরং এই প্রবণতাই দ্রুত বাড়ছে বর্তমানে। নেপথ্যে, জেন জি চাকরিপ্রার্থীরা (Gen Z Job Seekers)। অবাক হওয়ার মতো বিষয় তো বটেই। কারণ মিলেনিয়ান, অর্থাৎ জেন জির আগের প্রজন্ম বাবা-মাকে এমন কাজে সঙ্গী করতে চায় না কখনওই। চাকরির সময় শৈশবের নির্ভরশীলতা কাটিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে চায় তারা।
অথচ স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার এই ইচ্ছে বাদ দিয়ে জেন জি বুঝি ঝুঁকছে নির্ভরশীলতার দিকেই। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন নিয়োগকর্তা এমন অভিজ্ঞতার সাক্ষী। বিশেষত স্নাতক স্তরের যেসব তরুণ-তরুণীরা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছে, তাঁদের সঙ্গী হয়েছেন বাবা অথবা মা। পরবর্তী বছরগুলোয় এই প্রবণতা আরও বেড়েছে।
শুধু তাই নয়, নিয়োগকর্তারা জানিয়েছেন, জেন জি চাকরিপ্রার্থীরা দ্রুতই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকেই অস্থির, নিয়োগকর্তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় আই-কন্ট্যাক্ট বজায় রাখতে পারে না। ২০২৫-এর শেষভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য। জানা যাচ্ছে, সেখানকার ১০০০ জন তরুণ চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে ৭৭%-ই বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছেন। তার মধ্যে ৪০%-এর ক্ষেত্রে অভিভাভক ইন্টারভিউ চলাকালীন উপস্থিত থেকেছেন। ৩০% অভিভাবক সন্তানের হয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নিজেই! ২৭ শতাংশের ক্ষেত্রে আবার বাবা-মায়েরাই আগ বাড়িয়ে বেতন অথবা সুযোগ-সুবিধাজনিত প্রশ্ন করেছেন নিয়োগকর্তাকে! এমনকী চাকরি পাওয়ার পরেও কোনওদিন ছুটির প্রয়োজন হলে বাবা-মায়েরা কথা বলেছে ম্যানেজারের সঙ্গে!
কেন এমন হচ্ছে?
মনোবিদদের অনুমান, এই প্রবণতার পিছনে শৈশবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দায়ী। জেন জির বয়ঃসন্ধির একটা বড় অংশ কেটেছে কোভিডকালে, গৃহবন্দি অবস্থায়। এদের পড়াশুনোর অনেকটাই অনলাইন মাধ্যম-নির্ভর। ফলে সামনাসামনি বসে ইন্টারভিউ দিতে হলে আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে তারা। সোশাল মিডিয়া তাদের সমাজ থেকে বিচ্যুত করে অন্তর্মুখি করে তুলেছে। তাই সামাজিক পরিস্থিতি সামাল দিতে, অভিভাবকদের প্রতি নির্ভরশীল হয়েছে তারা।
তবে এমন প্রবণতা চিন্তার, জানিয়েছেন মনোবিদরা। জেন জি বা আরও পরের প্রজন্মগুলি যে সোশাল স্কিল হারাচ্ছে, এ তারই প্রমাণ। অন্যদিকে নিয়োগকর্তারাও অল্পবয়সীদের চাইতে মাঝবয়সীদেরই দায়িত্বশীল বলে মনে করছেন। তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে তো বটেই। তবে এমন ঘটনা ‘পেরেন্টিং’ নিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যেও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়।
