তাঁকে বলা হয় 'একালের নস্ট্রাদামুস'। তাঁর দাবি, কোভিডের প্রাদুর্ভাবের হদিশ তিনি আগেই পেয়েছিলেন। এমনকী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণীও নাকি করেছিলেন। এবার ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে মুখ খুললেন সেই অ্যাথোস সালোমে। তিনি যা বলেছেন, তা সত্যি হলে নিশ্চিতভাবে যুদ্ধের প্রভাব আরও সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। ব্রাজিলের ৩৯ বছরের ওই ব্যক্তির মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা।
পেশায় প্যারাসাইকোলজিস্ট অ্যাথোস আগেই দাবি করেছিলেন ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের মধ্যে ইরানে সরাসরি হামলা চালাবে ইজরায়েল। আর এপ্রসঙ্গে ফের তুলে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ''প্রথম আঘাত যখন হওয়ার তখনই হয়েছে। কিন্তু আগামিদিনে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বহু কিছু হতে চলেছে। তেহরানের প্রতিক্রিয়া এবং এই অঞ্চলে তাদের মিত্রগোষ্ঠীর গোপন সেলগুলির সম্ভাব্য মোতায়েন থেকেই ইঙ্গিত মিলছে যে, এই সংঘাত এমন এক নজিরবিহীন ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে পরিণত হবে, যার প্রধান বৈশিষ্ট্যই হবে নতুন নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিকাশ এবং বিধ্বংসী সাইবার হামলা।''
ইরান যুদ্ধ নিয়ে আরও মন্তব্য করেছেন অ্যাথোস। জানিয়েছেন, তাঁর মতে আমেরিকা সামরিক ভাবে এই লড়াই জিততে চায় না। তাই এই যুদ্ধের সমাপ্তিও সহজে হবে না। তেহরানের তেল যাতে সহজে চিনে পৌঁছতে না পারে, সেটাই নাকি ট্রাম্পের উদ্দেশ্য। অ্যাথোস আরও জানিয়েছেন, তিনি আগেই এক ‘অদৃশ্য যুদ্ধের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই সঙ্গেই দীর্ঘদিন ধরে সাইবার হামলা চলার ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন এই 'নতুন' নস্ট্রাদামুস।
উল্লেখ্য, সোমবার ২৫ দিনে পড়েছে ইরান যুদ্ধ। এই লড়াইয়ে ইরান ছারখার হলেও প্রত্যাঘাতে আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে মার্কিন হামলায়। শেষ ২০ দিনের যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ৩টি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও ৬টি কেসি ট্যাঙ্কার ধ্বংস হয়েছে। ইজরায়েলের হাইফা তেল সংশোধনাগারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার ধ্বংস করছে ইরান। হরমুজ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার পেরিয়েছে।
