shono
Advertisement

Breaking News

Maharaja’s Well

ভারতীয় রাজার দৌলতে তৃষ্ণা মেটে ইংল্যান্ডের গ্রামবাসীর, ১৬২ বছরের 'মহারাজা কুয়ো' আজও বিস্ময়

ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় এই প্রকল্পে প্রায় ৩৫৩ পাউন্ড খরচ হয়েছিল, অর্থাৎ বর্তমানের ভারতীয় মুদ্রার সঙ্গে তুলনা করলে তা দাঁড়ায় প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা!
Published By: Utsa TarafdarPosted: 06:11 PM Sep 01, 2026Updated: 06:11 PM Sep 01, 2026

বিদেশের মাটিতে ভারতের এমন এক নিদর্শন, যার সামনে দাঁড়ালে বিস্ময়ে বিস্ফারিত হয়ে ওঠে দুই চোখ। নেপথ্যে এক ভারতীয় মহারাজা। এই নিদর্শন কিন্তু কোনও গগনচুম্বী প্রাসাদ নয়, বাড়ি নয়, ফটক নয়— বরং এক কুয়ো! স্বাভাবিকভাবেই এত এই কুয়োর স্থাপনা, তা জানার জন্য উদ্বেল হয়ে ওঠে মন।

Advertisement

ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারের ছোট্ট গ্রাম স্টোক রো-তে দাঁড়িয়ে রয়েছে এমন এক কুয়ো, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের এক মহারাজার নাম। ৩৬৮ ফুট গভীর এই ঐতিহাসিক জলকূপটি পরিচিত ‘মহারাজা’স ওয়েল’ নামে (Maharaja’s Well)। ১৮৬০-এর দশকে বেনারসের মহারাজা ঈশ্বরী প্রসাদ নারায়ণ সিংহের অর্থসাহায্যে তৈরি হয়েছিল এটি। ১৮৬৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কুয়োটি উদ্বোধন করা হয়।

চিলটার্ন হিলসের স্টোক রো-তে একসময় পানীয় জলের যথেষ্ট অভাব ছিল। স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতির কারণে শুষ্ক মরশুমে পুকুর শুকিয়ে যেত এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও ছিল অনেক গভীরে। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ভারতে কর্মরত ব্রিটিশ আধিকারিক এডওয়ার্ড অ্যান্ডারটন রিডে স্টোক রো-র জলকষ্টের কথা বেনারসের মহারাজার কাছে জানান। শোনা যায়, খরার সময় এক বাড়িতে থাকা শেষ জলটুকু পান করার অপরাধে এক শিশুকে শাস্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনাও তিনি মহারাজাকে জানিয়েছিলেন।

ঘটনাটি গভীরভাবে প্রভাবিত করে মহারাজাকে; তিনি গ্রামবাসীদের জন্য একটি কুয়ো তৈরির অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৬৩ সালে কুয়ো খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। কেবলমাত্র হাতে খুঁড়েই প্রায় ৩৬৮ ফুট গভীরে পৌঁছনো হয়, যাতে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর পাওয়া যায়। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় এই প্রকল্পে প্রায় ৩৫৩ পাউন্ড খরচ হয়েছিল এবং নির্মাণে প্রায় এক বছর সময় লাগে। অর্থাৎ বর্তমানের ভারতীয় মুদ্রার সঙ্গে তুলনা করলে তা দাঁড়ায় প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা!

পরে কুয়োটিকে ঘিরে তৈরি হয় একটি নকশাদার অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান শৈলীর প্যাভিলিয়ন। তার উপরে বসানো হয় একটি সোনালি হাতি, যা এই স্থাপনার সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্যগুলির অন্যতম। মহারাজা কুয়োটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কাছেই একটি চেরি বাগানও তৈরি করেছিলেন। সেটি পরিচিত ছিল ‘ইশ্রী বাগ’ নামে। বাগান থেকে যা আয় হত, তা কাজে লাগানো হত কুয়োটির দেখভালে।

নির্ভরযোগ্য জলের উৎস তৈরি হওয়ায় স্টোক রো-তে বসতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে শুরু করে। ১৯২৭ সালে গ্রামে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ শুরু হলে ধীরে ধীরে কুয়োটির দৈনন্দিন ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমেনি।

১৯৬৪ সালে কুয়ো তৈরির শতবর্ষ উপলক্ষে স্টোক রো-তে প্রায় ১,৫০০ মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্স ফিলিপ। শতবর্ষ পেরিয়ে আজও ‘মহারাজা’স ওয়েল’ দাঁড়িয়ে রয়েছে একই জায়গায়—একটি ছোট্ট ইংরেজ গ্রামে ভারতীয় এক শাসকের মানবিক উদ্যোগের ১৬০ বছরেরও বেশি পুরনো স্মৃতির নিদর্শন হয়ে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement