বৈচিত্রের দেশ ভারত। কত শত যে মন্দির রয়েছে দেশ জুড়ে, তা বুঝি গুণে শেষ করা যাবে না। কিছু মন্দিরের রীতির মতোই অনন্য সেখানকার প্রসাদ। চিরাচরিত ফল-সন্দেশ-খিচুড়ির বাইরেও যে কত রকমের খাবার প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয় ভারতের বিবিধ মন্দির ভেদে, তা দেখলে অবাক হতে হয় বৈকি। কোথাও সেদ্ধ নুডলস, কোথাও পিজা, কোথাও সরাসরি আমিষ খাবার, কোথাও বা অ্যালকোহল-যুক্ত পানীয়ও দেওয়া হয় প্রসাদে।
তেমনই এক প্রসাদ যারপরনাই ‘ভাইরাল’ হয়েছে সাম্প্রতিককালে। নেপথ্যে কেরলের এক মন্দির আর নব্বুই দশকের ছেলেমেয়েদের এক অতি প্রিয় চকোলেট ওয়েফার। দুইয়ের মধ্যে যোগসূত্র কোথায়? খোলসা করে বলা যাক সে কাহিনী।
'মাঞ্চ মুরুগান' মন্দির
কেরলের আলাপ্পুঝায় অবস্থিত থেক্কান পাঝানি শ্রী সুব্রহ্মণ্য স্বামী মহাক্ষেত্রম থালাভাদি মন্দির। এখানে আনুমানিক ৩০০ বছর ধরে পূজিত হন ভগবান সুব্রহ্মণ্য স্বামী, অর্থাৎ ভগবান মুরুগান। বাঙালির কাছে তিনিই মহাদেবের পুত্র কার্তিক। আলাপ্পুঝার এই মুরুগান মন্দিরটি বিশেষভাবে পরিচিত থাইপূয়ম উৎসবের জন্য। উৎসবের সময় কাভাড়ি যাত্রা ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার অনুষ্ঠিত হয়।
তবে মন্দিরটির সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হল ঈশ্বরের কাছে নিবেদিত নৈবেদ্য। ফল-ফুল তো রয়েছেই, তবে ভক্তরা এখানে ভগবানের জন্য নিয়ে আসেন ‘মাঞ্চ’। নব্বুইয়ের দশকে তুমুল জনপ্রিয় ছিল ‘মাঞ্চ’, কামড় দিলেই চকোলেটের পরত ভেদ করে মুখ ভরে উঠত মিষ্টি ওয়েফারের স্বাদে। বর্তমানের তরুণ প্রজন্মের কাছে এই চকোলেট ঘিরে উন্মত্ততা খানিক হলেও কম।
তবে ভগবান সুব্রহ্মণ্য স্বামীর মন জিততে একান্ত প্রয়োজনীয় এই মাঞ্চ-ই। ভগবানের নিবেদনের পর সেই মাঞ্চই প্রসাদ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়া হয় ভক্তদের। সঙ্গে থাকে ঈশ্বরের আশীর্বাদপ্রাপ্ত ফুলের কুচি ও চন্দন। সাম্প্রতিককালে জনৈক কনটেন্ট ক্রিয়েটর এই মন্দির ঘুরে দেখান, মন্দিরের মজাদার প্রসাদের গল্পও ভাগ করে নেন দর্শকদের সঙ্গে। তবে মাঞ্চ নিবেদনের এই প্রথা নতুন নয়। সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরেই মানা হয় এই রীতি।
ভগবানের প্রসাদ
তবে এই প্রথার সঠিক উৎস স্পষ্ট নয়। কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন গল্প প্রচলিত রয়েছে। স্থানীয়রা কেউ কেউ বলেন, এক অসুস্থ শিশু একসময় ভগবান মুরুগনের কাছে সুস্থতা কামনা করে একটি মাঞ্চ নিবেদন করেছিল। পরে শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠলে মাঞ্চ নিবেদনের এই প্রথা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকী মন্দিরের ভগবান মুরুগন ‘মাঞ্চ মুরুগান’ নামে পরিচিত হয়ে যান। বর্তমানে এই অদ্ভুত প্রথাই ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে মন্দিরটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
