শিবের মাস। চারপাশে ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি। তার মাঝেই হরিদ্বারের পথে থমকে দাঁড়ালেন পুণ্যার্থীরা। চাক্ষুষ করলেন এক লোকাতীত দৃশ্য। যা দেখে মনের ভক্তি আরও বেড়ে যায়। আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয় চোখের পাতা। কলিযুগের পথচলতি ভিড়ে হঠাৎ যেন অবতীর্ণ হয়েছেন অন্ধ মুনির পুত্র শ্রবণ কুমার!
মা ও মাসিকে দুই কাঁধে তুলে নিয়ে শিবধামের উদ্দেশে হাঁটছেন এক যুবক। কাঁধে রয়েছে ১১৫ কেজি ওজনের বিশাল বাঁক। উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের বাসিন্দা এই যুবকের নাম যশবীর। ভোলেনাথের কৃপা ও বাবা-মায়ের প্রতি অবিচল ভক্তিতে তিনি পার করলেন মাইলের পর মাইল।
রামায়ণে অন্ধ পিতা-মাতাকে বাঁকে বসিয়ে তীর্থভ্রমণে বের হওয়া শ্রবণ কুমারের কাহিনি আমাদের সকলেরই জানা। সনাতন ধর্মে সেই চিরন্তন ত্যাগের গাথা আজ আর কেবল গল্পের পাতায় আবদ্ধ নয়। যশবীর প্রমাণ করলেন, শ্রদ্ধা ও ভক্তি আজও ম্লান হয়নি। তাঁর কাঁধে সওয়ার ৭০ বছরের বৃদ্ধা মা এবং ৬৫ বছরের মাসি। যশবীরের বক্তব্য পরিষ্কার, সমাজকে একটিই বার্তা দিতে চাই। বাবা-মাকে ভালোবাসুন, তাঁদের শ্রদ্ধা ও সেবা করুন।
গত ৩০ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এই বছরের পবিত্র কানোয়ার যাত্রা। চলবে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত। গঙ্গা জল সংগ্রহ করতে প্রতি বছরই গঙ্গাোত্রী, গোমুখী, সুলতানগঞ্জ এবং হরিদ্বারে কোটি কোটি শিবভক্তের সমাগম ঘটে। তবে এই বছরের যাত্রায় যশবীরের এই পরম ভক্তিই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। নেটদুনিয়ায় তাঁর এই ভিডিও ভাইরাল হতেই শ্রদ্ধায় মাথা নত করেছেন নেটিজেনরা।
ভারতীয় সংস্কৃতিতে ‘মাতৃদেব ভব, পিতৃদেব ভব’ পরম সত্য। শাস্ত্রে বলা হয়, মা-বাবার সেবা করার চেয়ে বড় ধর্ম বা তপস্যা আর কিছুই হতে পারে না। পুরাণের শ্রবণ কুমার থেকে আজকের যশবীর— যুগের পরিবর্তন হলেও এই চিরন্তন সত্য আজও অমলিন। বিশ্বনাথের চরণে গঙ্গাজল ঢালতে যাওয়ার এই যাত্রা কেবল পুণ্য অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং অপত্য স্নেহের এক অপূর্ব নিদর্শন।
