শুধু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই নিশানা নন। পরিকল্পনা ছিল আরও অনেক বড়। ককরোচ আন্দোলনের মাঝে পুলিশ সেজে দিল্লিতে যন্তর মন্তরে নাশকতার ছকও কষেছিল জঙ্গি হামিম মণ্ডল! শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা। যদিও হামিম নিজে সেখানে গিয়েছিলেন, নাকি সঙ্গীদের পাঠিয়ে অপারেশনের পরিকল্পনা ছিল, গোটাটাই তদন্ত সাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন পুলিশকর্তা।
শুক্রবার সকাল থেকে চর্চায় ধৃত জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য হামিম মণ্ডল। ইতিমধ্যেই তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। এরপরই শনিবার দুপুরে ভবানীভবন থেকে এনিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন এসটিএফের (স্পেশাল টাস্ক ফোর্স) আইজি গৌরব শর্মা। সেখানেই মেলে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য। গৌরব শর্মা জানান, চারবছর ধরে বাংলায় ঘাঁটি তৈরি করেছিল জইশ-ই -মহম্মদের সদস্য হামিম। সম্প্রতি হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণের হুমকির তদন্তে নেমে হামিমের হদিশ পায় পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারির পরই উঠে আসে পাক যোগের তথ্য। পুলিশ জানতে পারে, ইনস্টাগ্রাম- টেলিগ্রামের মতো অ্যাপের মাধ্যমেই পাকিস্তানের সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত সে। কারণ, এই অ্যাপগুলোয় চ্যাট থাকে এনক্রিপ্টেড। পুলিশের নজর এড়াতে, আমেরিকা, মেক্সিকো-সহ বিভিন্ন জায়গার সিম ব্যবহার করত হামিম ও তার সঙ্গীরা। এদিন গৌরব শর্মা জানান, সেই এনক্রিপ্টেড চ্যাট থেকেই পুলিশ জানতে পারে সরাসরি পাকিস্তানের জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল হামিমের। পাকিস্তান থেকে টাকাও এসেছে হামিমের অ্যাকাউন্টে। পুলিশের অনুমান, পাকিস্তানে বসে ভারতে নাশকতার যে নীলনকশা তৈরি করা হয় তা বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল হামিম ও সঙ্গীদের।
শুধু শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলা নয়, হামিমদের টার্গেট ছিল আরও অনেক বড়। এসটিএফের দাবি, পুলিশ সেজে ককরোচদের ভিড়ে মিশে নাশকতার ছক ছিল হামিমদের। তা বাস্তবায়িত করতে পারলে 'শক্তিশালী' মোদি সরকারকে কালিমালিপ্ত করা যেত। এই উদ্দেশ্যে পুলিশের পোশাকও তৈরি করেছিল হামিম। যদিও ঠিক কী পরিকল্পনা ছিল, ঘটনাস্থলে খোদ হামিম ছিল কি না, কোন পথে আক্রমণের পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পুলিশকর্তা জানান, পাকমদতপুষ্ট এই জঙ্গি ঠিক কোন কোন অপারেশনের প্ল্যান করেছিলেন, কীভাবে এগোচ্ছিল কাজ, তার সবটা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ককরোচ আন্দোলনের নেপথ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছিল ডিপ স্টেট তথ্য। হামিমের যন্তর মন্তরে নাশকতার ছক প্রকাশ্যে আসতেই ফের প্রশ্নের মুখে আরশোলারা। মোদি সরকারকে বদনাম করতে, বিপাকে ফেলতে পড়ুয়াদের এই আন্দোলনের নেপথ্যে জইশ যোগ নেই তো? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
