shono
Advertisement
Mexican Batman

একের পর এক মোটরসাইকেল চোরকে খুঁটিতে বাঁধছে 'মেক্সিকান ব্যাটম্যান'! বিশ্বজুড়ে হইচই 

এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনকে একই কায়দায় খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকজনের শরীরে মারধরের চিহ্নও ছিল। তবে এই অবস্থায় হস্তক্ষেপ করেন মানবাধিকার কর্মীরা।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 02:52 PM Jul 01, 2026Updated: 02:52 PM Jul 01, 2026

মাসকতক আগে বাইক চুরি করে পালিয়েছিল অপরাধী! অনেক খুঁজেও পুলিশ সে চোরের হদিশ দিতে পারেনি। আচমকাই এক সন্ধ্যায় খুঁজে পাওয়া গেলে চোরকে। তার অবস্থা দেখে পথচলতি মানুষের ভিরমি খাওয়ার অবস্থা। কেন? কারণ রাস্তার পাশের ইলেকট্রিক পোলের সঙ্গে কেউ আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখে গিয়েছে তাকে! তাও আবার সাধারণ দড়ি নয়, শক্তিশালী ডাক্ট টেপ দিয়ে। গলা থেকে পা অবধি এমনভাবে পেঁচানো হয়েছে, যে দেখে মনে হয় মানুষ নয়, কোনও অতিমানবের কাজ! পালানো তো দূরের কথা, হাত-পা নাড়ানোর ক্ষমতাটুকু রাখেনি। মুখও বন্ধ করেছে ডাক্ট টেপেই।

Advertisement

কখনও আবার খুঁটিতে রঙিন কাগজ সেঁটে তাতে লিখে দেওয়া ব্যক্তিটির অপরাধ।

তার চাইতেও আশ্চর্য ব্যাপার হল, চুরি করা মোটরসাইকেলটি দাঁড় করিয়ে রেখে গিয়েছে পাশে! চোর ধরার এমন অদ্ভুত উপায় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সেই প্রথম। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে আরও একাধিকবার হতে দেখা গেল এমনটাই। প্রতিবারই চোর ডাক্ট টেপে বাঁধা খুঁটির সঙ্গে। কারও কপালে স্প্যানিশ ভাষায় ‘রাতেরো’ লেখা, বাংলায় যার অর্থ চোর। কারও মুখে নেহাতই বিড়ালের গোঁফ এঁকে দেওয়া হয়েছে মজার ছলে! কখনও আবার খুঁটিতে রঙিন কাগজ সেঁটে তাতে লিখে দেওয়া ব্যক্তিটির অপরাধ। 

কিন্তু কে করতে পারে এমনটা? চোরদের উদ্ধার করেও জানা যায়নি সে পরিচয়। ব্যক্তির চেহারা মুখোশে ঢাকা থাকে— এছাড়া কিছুই উল্লেখযোগ্য তথ্য দিতে পারেনি তারা। এই আশ্চর্য ঘটনাটি মেক্সিকোর লাগোস দে মোরেনো শহরের। রাতের অন্ধকারেই নাকি সেখানে বেরিয়ে পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় অপরাধদমনকারী। এমন নাটকীয় হেইস্টের পুরোধাকে তাই ‘মেক্সিকান ব্যাটম্যান’ (Mexican Batman) নাম দিয়েছে স্থানীয়রা। তার কার্যকলাপ রীতিমতো ভাইরাল সোশাল মিডিয়ায়।

এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনকে একই কায়দায় খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকজনের শরীরে মারধরের চিহ্নও ছিল। তবে এই অবস্থায় হস্তক্ষেপ করেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাঁদের মতে, আইনকে কখনওই নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না সাধারণ মানুষ। ঘটনাটিকে তারা 'চোর তথা নিম্নবিত্ত মানুষদের উপর শারীরিক নির্যাতন' হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এমনটা চলতে দিলে, কোনও নিরপরাধও শিকার হতে পারে ব্যাটম্যানের অত্যাচারের! ফলত, ব্যাটম্যানকে ধরতে সক্রিয় হয়েছে তদন্তকারী দল। আদৌ ব্যাটম্যান একা, নাকি দলবদ্ধভাবে কাজ করছে, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

এ কাজের নেপথ্যে কোনও ব্যক্তি রয়েছে নাকি গোষ্ঠী, তা নিয়ে চলছে জোরদার তদন্ত।

সাধারণ মানুষের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা যদিও নতুন নয়। মেক্সিকোতেই বিভিন্ন রাজ্যে এক সময় স্থানীয় ‘অটোডেফেনসা’ নামের এক সশস্ত্র গোষ্ঠী, মাদকচক্র ও সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল। অনুরূপ ঘটনার সাক্ষী দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও ফিলিপাইনের কিছু এলাকাও। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ এমন কর্মকাণ্ডকে বেআইনি বলেই বিবেচনা করেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement