মানুষ ও বাঁদরের বন্ধুত্বের কথা আছে রামায়ণে। কে ভুলবে রামের বানরসেনার কথা! তাছাড়া বন্ধুত্বের বয়স হয় না। তাই কর্নাটকে ৮৫ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত হতে দেখা গেল একটি বাঁদরকে। এলাকায় সকলেই জানত পর্বতাম্মা বাঁদরদের বন্ধু। রোজ ওদের খেতে দিতেন। বৃদ্ধার শেষযাত্রায় দেখা গেল চোখে জল আনা দৃশ্য। প্রাণহীন পর্বতাম্মার মাথার কাছে বসে আছে শোকে বিহ্বল একটি বাঁদর। এক সময় সে বৃদ্ধাকে দু'হাতে জড়িয়ে ধ'রে শেষবারের জন্য ভালোবাসা প্রকাশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চোখের জল ফেলেছে বাঁদরটি। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। যা দেখে আবেগে ভাসছে নেটাপাড়া।
এই ঘটনা কর্নাটকের রায়ারা রেড্ডির। স্থানীয় বাসিন্দারা পর্বতাম্মাকে বাঁদরপ্রেমী হিসাবে চিনতেন। গত কয়েক দশক ধরে নিয়ম করে বাঁদরদের খাবার খাওয়াতেন তিনি। এভাবেই এলাকার গাছে গাছে লাফিয়ে বেড়ানো 'বানরসেনা'র সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তাঁর। পর্বতাম্মার প্রতিবেশীদের দাবি, খাবার দেওয়ার পাশাপাশি বাঁদরদের আদরে ভরিয়ে দিতেন বৃদ্ধা। পালটা আদর দেখাত পশুরাও। উভয়পক্ষে সম্পর্ক যে উপর উপর ছিল না, ভাইরাল ভিডিওতে তা প্রমাণ হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পর্বতাম্মার বাড়ির একফালি উঠোনে একটি চৌকিতে মরদেহ রাখা আছে। শেষকৃত্যের আগে আত্মীয়-প্রতিবেশীরা সেখানে জরো হয়েছেন। তখনই একটি বাঁদর সেখানে হাজির হয়। সে চৌকিতে পর্বতাম্মার মাথার কাছে গিয়ে বসে। এক সময় জড়িয়ে ধরে শেষবারের আদর করে বৃদ্ধাকে। বেশ কিছুক্ষণ ছলছল চোখে তাকিয়ে 'বন্ধু'র বুকে মাথা রাখে বাঁদরটি। যেন এতদিনের সম্পর্কের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে!
এই ভিডিওই ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। যা দেখে অনেকেই কমেন্ট করেছেন, মানুষ উপকার ভুলে যেতে পারে, পশুরা কখনও অকৃতজ্ঞ হয় না। একজন লিখেছেন, "বাঁদরটি যেভাবে বৃদ্ধাকে জড়িয়ে ধরেছিল, তা দেখিয়ে দেয় ভালোবাসার ভাষা সকলে বোঝে।" আরও এক নেটিজেন লিখেছেন, "ওরাই প্রকৃত মানুষ, আমরা ওদের প্রাণী বলি।"
