কথায় বলে, প্রেমে মানুষ অন্ধ হয়ে যান। চোখ থাকতেও তখন নেই। মগজে ঝোলে গাবদা তালা। প্রেমের জন্য গোটা পৃথিবী তোলপাড়! তবে এমন ঘটনা আগে কে কবে শুনেছে? স্রেফ অন্যের চুলের প্রশংসা 'সহ্য' করতে পারেননি। প্রেমিকের মুখে অন্য তরুণীর রূপের বর্ণনা শুনে রাগে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন প্রেমিকা। আর সেই ঈর্ষার চরম পরিণতি দেখল মুম্বইয়ের ভারসোভা। ঈর্ষা যে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, গত ২৫ মার্চ মাঝরাতের এই ঘটনা যেন তারই প্রমাণ। সন্দেহের বশে এক কলেজছাত্রীর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁর চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠল সহপাঠিনীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সেই অপমানের দৃশ্য মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছু দিন আগে। ধৃত তরুণী, তাঁর প্রেমিক এবং নিগৃহীতা— তিনজনেই সহপাঠী। অভিযোগ, নিগৃহীতা তরুণীর লম্বা চুলের প্রশংসা প্রায়ই করতেন অভিযুক্তের প্রেমিক। এই সামান্য 'প্রশংসা'ই কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রেমিকের মুখে অন্য মেয়ের চুলের গুনগান মানতে পারেননি ২১ বছরের ওই তরুণী। নিজের হীনম্মন্যতা থেকেই সহপাঠিনীর প্রতি তীব্র ঘৃণা তৈরি হয় তাঁর। মনে দানা বাঁধে সন্দেহ।
গত ৭ মার্চ প্রথমবার সংঘাত চরমে ওঠে। সেদিন নিগৃহীতার ফোন কেড়ে নিয়ে তল্লাশি চালিয়েছিলেন অভিযুক্ত তরুণী। কিন্তু সন্দেহজনক কিছুই মেলেনি। তবে তাতেও শান্ত হননি তিনি। রাগের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল বুকের ভেতর। সেই আক্রোশ থেকেই গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ দুই বন্ধুকে নিয়ে নিগৃহীতার ফ্ল্যাটে হাজির হন তিনি।
অভিযোগ, মাঝরাতে জোর করে ওই ছাত্রীকে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে আনা হয়। এরপর শুরু হয় তাণ্ডব। কাঁচি দিয়ে কেটে দেওয়া হয় ওই তরুণীর সাধের লম্বা চুল। নিগৃহীতার অভিযোগ, গোটা ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও করেন অভিযুক্তের বন্ধুরা। ভয় দেখানো হয়, সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। নিগৃহীতার কথায়, "কারও আমার চুল ভালো লাগলে তাতে আমার কী দোষ? ও একটা মানসিক রোগী। নিজের প্রেমিককে বিশ্বাস করে না, অথচ চরম অপমানে হেনস্থা হতে হল আমাকে।"
ইতিমধ্যেই ভারসোভা থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন নিগৃহীতা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনে এই ধরনের অপরাধ দেখে তাজ্জব দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরাও। নিছক ঈর্ষা থেকে এমন পরিকল্পিত হিংসা আধুনিক সমাজের এক অন্ধকার দিককেই আরও বেশি প্রকট করে তোলে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিগৃহীতা ও তাঁর পরিবার।
