জল আর জল্পনা। মিলেমিশে দুই-ই একাকার। বাইরের দুনিয়ায় তখন অঝোর ধারায় বর্ষণ। চারিদিকে জল থইথই। কিন্তু প্রণয়ী যুগলের মাথায় তখন একটাই চিন্তা। শুভলগ্ন পেরিয়ে যাবে না তো! প্রাকৃতিক দুর্যোগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, কোমর জল ডিঙিয়েই তাঁরা পা বাড়ালেন জীবনের নতুন ইনিংসে। কী! সিনেম্যাটিক মনে হচ্ছে?
ঘটনাস্থল ফিলিপিন্স। জায়গাটি ম্যানিলার উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাডোনয়। টানা এক মাসের অতিবৃষ্টিতে পুরো এলাকা যখন জলে ভাসছে, তখন স্থানীয় সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্ট চার্চের চেহারাটা হয়েছিল দেখার মতো। ভেতরে একেবারে থইথই গঙ্গার জল! চার্চ কর্তৃপক্ষ অবশ্য বর-কনেকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলেন, 'বিয়েটা আপাতত মুলতুবি রাখুন।' কিন্তু প্রেমে যে নাছোড়বান্দা! তাকে আটকায় সাধ্যি কার?
বর গিলেস চিকো এবং কনে লেইয়ান লিয়া জা গালং মুখের উপর জানিয়ে দিয়েছিলেন, জলে ভেসে যাক গোটা পৃথিবী, কিন্তু মালাবদল হবেই! যেমন কথা, তেমনই কাজ। কনে নিজের দুধসাদা লম্বা গাউনটি সামান্য কেটে ছোট করলেন। যাতে জলে পড়ে হাবুডুবু খেতে না হয়। তারপর একটি উঁচু রিকশায় চড়ে সটান চার্চের সামনে হাজির। এরপর শুরু হল আসল অ্যাডভেঞ্চার।
কনের হাতে ফুলের তোড়া। পরনে ভারী গাউন। হাঁটার পথটা তো সহজ নয়! ঘোলা জলে ছপছপ করে হেঁটে তিনি এগিয়ে চললেন। বরও তৈরি ছিলেন স্যুট-বুট পরে। বর-কনে দুজনেরই পোশাক একেবারে জলে ভিজে একশা! বাদ যায়নি আংটি বহনকারী পুচকে খুদেটিও। এক কোমর জল ডিঙিয়ে সে হেঁটে চলেছে আংটি হাতে। চার্চের খালি বেঞ্চগুলো তখন জলের উপর যেন ছোট ছোট দ্বীপ। তবে এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিলিয়ে জনা পনেরো জলজ্যান্ত মানুষ ঠিকই হাজির ছিলেন অনুষ্ঠানে।
পাদরিও আর দেরি করেননি। নিয়ম মেনে দ্রুত শুভ কাজ শেষ করলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সাঙ্গ হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তবে বর গিলেস চিকো জানিয়েছেন, বিয়েটা হওয়ার কথা ছিল আগামী ডিসেম্বরে। সম্প্রতি বাস্কেটবল খেলতে গিয়ে পায়ে চোট পান তিনি। যার কারণে কাজ ছেড়ে বাধ্য হয়ে আগেই বাড়ি ফিরতে হয়। আর সেই ছুটির মোক্ষম সুযোগটাকেই বিয়ের কাজে লাগিয়ে নিলেন তিনি।
শেষে ছবি তোলার পালা। ক্যামেরা হাতে চিত্রগ্রাহক এক কোমর জলের উপর দাঁড়িয়েই সেই দায় সারলেন। সোশাল মিডিয়ায় এখন সেই বিয়ে নিয়ে তুমুল চর্চা। দুর্যোগ যেখানে অনেক পরিবারকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে, সেখানে এই নবদম্পতি প্রমাণ করলেন, প্রেম খাঁটি হলে, কোমর জলও কোনও বাধা নয়!
