'মধ্যবিত্ত শরীরে আজ/ সময় শুধুই ফন্দি আঁটে' - বয়সের ভার নিয়ে লেখা গানের ছত্রে ছত্রে মানুষের দৈহিক, মানসিক সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন কবীর সুমন। বয়স হলে চিকিৎসকরাও একগুচ্ছ বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেন। বয়সের অঙ্ক বেড়ে চলা মানে স্বাধীনতার ক্রমাবনতি। কিছুতেই নিজের পছন্দমতো কোনও কাজকর্ম করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু এসব চিরাচরিত রোজকার রুটিনের সম্পূর্ণ উলটো পথে হেঁটেই বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিলেন চিনের এক বৃদ্ধা। বয়স তাঁর ১০১ বছর। ভাবছেন তো উলটো রাস্তাটা কী? জিয়াং ইউকিন নামে ওই বৃদ্ধা মাঝরাত পর্যন্ত টিভি দেখেন, সর্বক্ষণ তাঁর মুখ চলছে কোনও না কোনও স্ন্যাকসে, আবার সকাল সকাল নয়, তিনি উঠছেন বেশ দেরি করে! একজন বয়স্ক মানুষের মোটেই এটা সাধারণ রুটিন হতে পারে না। বরং চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা যাকে বলে! তবে শতবর্ষ পেরনো সুস্থ সবল জিয়াং একেবারেই ব্যতিক্রমী। তাঁকে নিয়ে চর্চার শেষ নেই নেটদুনিয়ায়।
দক্ষিণ চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা জিয়াং সাত সন্তানের জননী। তাঁর রুটিন শুনলে চমকে উঠতে হয়। জিয়াংয়ের মেয়ে ইয়াও সংপিং জানিয়েছেন, তাঁর মা রাত ২ টো পর্যন্ত টিভি দেখেন, সঙ্গে খুচুরমুচুর করে স্ন্যাকস খান। এত রাত জাগার ফলে সকালে তাঁর ঘুম থেকে উঠতে উঠতে বেজে যায় ১০টা। ঘুম থেকে উঠে তিনি কড়া এককাপ গ্রিন টি খান। সেটাই তাঁর ভালো অভ্যাস, যা সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
দক্ষিণ চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা জিয়াং সাত সন্তানের জননী। জিয়াংয়ের মেয়ে ইয়াও সংপিং জানিয়েছেন, তাঁর মা রাত ২ টো পর্যন্ত টিভি দেখেন, সঙ্গে খুচুরমুচুর করে স্ন্যাকস খান। এত রাত জাগার ফলে সকালে তাঁর ঘুম থেকে উঠতে উঠতে বেজে যায় ১০টা। ঘুম থেকে উঠে তিনি কড়া এককাপ গ্রিন টি খান।
এরপর গড়িয়ে যায় বেলা। ঘড়িতে সময় ধরা যাক ২টো কি ৩টে। তখন আর লাঞ্চ বা মধ্যাহ্নভোজ করেন না জিয়াং। প্রাতঃরাশ বা ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চে মাঝামাঝি মিল - 'ব্রাঞ্চ' সেরে নেন। এরপর সন্ধ্যা ঠিক ৬টা বাজলে রাতের খাবার খাওয়া হয়ে যায় তাঁর। আবার রাত ৯টা নাগাদ খিদে পেলে স্ন্যাকস খান। প্রিয় স্ন্যাকস স্থানীয় এক পেস্ট্রি - মাতিসং। এছাড়া বিস্কিট, মিষ্টি আলু ও চিনির রসে তৈরি যে কোনও স্ন্যাকস তাঁর অতি প্রিয়। ভাবুন, সবই শরীরে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। তবু তা সারাক্ষণ খেতে এতটুকুও উদ্বেগ নেই জিয়াংয়ের। সেটাই নাকি তাঁর সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
সারাক্ষণ খাওয়াদাওয়া করেই সুস্থ ১০১ বছরের জিয়াং।
জিয়াংয়ের পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, বছর দুই আগে তাঁর হাত ভেঙে গিয়েছিল, অস্ত্রোপচার হয়। তখন তাঁকে বিশ্রামে থাকতে পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কোনও কাজ করতে দিতেন না বাড়ির লোকজন। সেই থেকে এমন অভ্যাস শুরু জিয়াংয়ের। যেহেতু কাজকর্ম ছিল না, তাই সময় কাটানোর জন্য দিনের বেলা ঘুমোতেন, টিভি দেখতেন। আর রাতে জাগতেন। সারাক্ষণ স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাসও তখন থেকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই রুটিনেই অভ্যস্ত হয়েছেন জিয়াং। দাঁত তাঁর অটুট এখনও।
জিয়াংয়ের মেয়ে জানাচ্ছেন, ''মা সবকটি দাঁত দিয়ে ধীরে ধীরে চিবিয়ে সব খাবার খায়। তাই হজমের সমস্যা নেই। সর্বোপরি এই বয়সেও মায়ের এই বেহিসেবী জীবনযাপন করেও সুস্থ থাকার অন্যতম হাতিয়ার হল তাঁর মানসিক শান্তি। কখনও কারও সঙ্গে ঝগড়া করেন না, রাগারাগি করেন না, শান্তিতে থাকতে ভালোবাসেন।'' জিয়াংয়ের এই জীবনকাহিনি এখন নেটদুনিয়ায় অন্যতম চর্চার বিষয়। তাঁর গল্প শুনে সকলেই মানছেন, ইতিবাচক থাকাটাই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। প্রবীণ প্রজন্মকে ভিন্নতর জীবনদর্শনে উদ্দীপিত করুক জিয়াংয়ের রোজকার রুটিন।
