একেবারে 'গান্ধীগিরি' স্টাইল! সমস্যার কথা জানিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল। তাতে কাজ হয়নি। তবুও 'ধন্যবাদ'! টানা ৪৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট। তার প্রতিবাদে কোনও চিৎকার-চেঁচামেচি, ক্ষোভ-বিক্ষোভ নয়, শনিবার বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটির নন্দনপুর সাবস্টেশনে জামগাড়ি ও বাঁকাদহের বাসিন্দারা হাজির হলেন হাতে ফুলের তোড়া, রজনীগন্ধার মালা আর মিষ্টির বাক্স নিয়ে। এভাবেই ব্যঙ্গাত্মক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলেন তাঁরা। সকাল গড়াতেই বিদ্যুতের সাবস্টেশন চত্বরে জমে ওঠে ভিড়। গরমে ঘেমে কেউ ক্লান্ত তো কারও হাতে হাতপাখা। আর তারই মাঝে দেখা গেল একেবারে উলটো ছবি।
বাঁকুড়ায় বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বাসিন্দাদের 'গান্ধীগিরি'! নিজস্ব ছবি
বিদ্যুৎ অফিসে ঢুকে দেখা গেল, কয়েকজন যুবক কর্মীদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলছেন, ‘‘এই নিন, আপনাদের জন্য মিষ্টি। এত কষ্ট করে আমাদের দু'দিন অন্ধকারে রাখলেন!" পাশে দাঁড়ানো মহিলাদের কেউ মালা বাড়িয়ে দিয়ে হেসে উঠছেন, সেই হাসিতে স্পষ্ট কটাক্ষ। কোথাও আবার শোনা গেল, ‘‘এত ভালো পরিষেবার জন্য তো এই সম্মান প্রাপ্য।" জামগাড়ির বাসিন্দা বাপন মণ্ডলের কথায়, ‘‘ফোন করে করে ক্লান্ত। কেউ ধরেন না, ধরলেও আশ্বাস ছাড়া কিছু মেলে না। তাই ভাবলাম, ধন্যবাদটা সরাসরি জানাই। বাচ্চাদের পড়া বন্ধ, ফ্রিজের সব খাবার নষ্ট।” বাঁকাদহের মৌসুমী হেমব্রমের অভিযোগ, “রাতে গরমে থাকা যায় না, জলের সমস্যাও হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে গ্রামের জীবন থমকে যায়, সেটা বোঝাতেই এসেছি।” সুশান্ত মাহাতো নামে এক বাসিন্দার আবার বক্তব্য, ‘‘আমরা ঝগড়া করতে আসিনি। শান্তিপূর্ণভাবে বোঝাতে চাইছি। তবে এরপরও সমাধান না হলে বড় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।"
৪৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর এই ব্যতিক্রমী 'সম্মান' পেয়ে প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন সাবস্টেশনের কর্মীরা। পরে তাঁরা অভিযোগ শুনে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেন। যদিও নন্দনপুর সাবস্টেশনের ম্যানেজার এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। বিদ্যুৎ দপ্তরের রিজিওনাল ম্যানেজার সুমন্ত রায় বলেন, ‘‘প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরেই এই সমস্যা হয়েছে। মেরামতের কাজ চলছে, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে।" আশ্বাসে কাজ হোক বা না হোক, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঘোর সমস্যাতেও বাসিন্দাদের এই 'গান্ধীগিরি' কিন্তু মনে থেকে যাবে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের।
