গত কয়েক দশকে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা যত ভেঙে পড়েছে, তত বেসরকারি স্কুলে পড়ার খরচ মহার্ঘ হয়ে উঠেছে। 'শিক্ষা ব্যবসা' নিয়ে অভিভাবকদের হাজার অভিযোগেও পরিস্থিতির বদল হয়নি। এর মধ্যেই সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি স্কুলের কিন্ডারগার্টেনের ফি-র স্ক্রিনশট। ওই স্ক্রিনশট অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বাৎসরিত খরচ ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ নেটাগরিকদের। প্রশ্ন উঠছে, এর পর কি নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা করবেন না? তাছাড়া ঠিক কোন কারণে একটি শিশুর পড়াশোনার খরচ ৩ লক্ষ টাকা হতে পারে?
ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশট অনুযায়ী, কেবল ভর্তির খরচ ৪৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য নয়। আরও ৩৩ হাজার টাকা 'কাউশন ডিপোসিট'। এছাড়াও বাৎসরিক টিউশন ফি, গ্রন্থাগার ফি, জিমখানা ফি মিলিয়ে খরচ ২ লক্ষ ২৪ হাজার ৭১৮ টাকা। এর মধ্যে ধরা হয়নি স্কুলের যাতায়াতে গাড়ির খরচ, জুতো, মোজা, ক্যাফেটেলিরার চার্জ এবং অন্যান্য খরচ। সর্বমোট খরচ ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে বলেই দাবি। তাও আবার একজন কেজি ২-এর ছাত্র বা ছাত্রীর।
বিষয়টি সামনে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের সোনার টেবিল-চেয়ারে বসতে দেন? এত টাকা কোন কাজে লাগে? স্কুলের নামে ব্যবসার অভিযোগ এনেছেন অনেকেই। কেউ কেউ যেমন বলছেন, এখন শিক্ষা জিনিসটা কেবলমাত্র বড়লোকদের জন্যে। তেমনই অনেকের দাবি, নিজের আয় বুঝে পরিবারগুলি স্কুল পছন্দ করে থাকে। যদিও সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার মান এবং অন্য বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
স্কুল ফি-র স্ক্রিনশট দেখে এক নেটিজেন লিখেছেন--- "স্কুলগুলি সমস্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।" একজন মনে করিয়ে দিয়েছেন--- "বিশ্বের বহু দেশে বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করে সরকার।" একজন লিখেছেন, "স্কুলগুলোর দোষ নয়, যারা এমন স্কুলের সন্তানদের ভর্তি করেন তারাই গর্ধব।" সব মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে কিন্ডারগার্ডেনের ফি-র স্ক্রিনশট।
