রমনী বিশ্বাস, তেহট্ট: ঋন ফেরত দেব না, কিন্তু ইনসিওরেন্সের ১ কোটি টাকাও চাই। এই ধান্দায় দোকানে চুরির গল্প ফেঁদে পুলিশের জালে বাবা-ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে জানা গেল আসল সত্যি। নদীয়ার শান্তিপুরের ঘটনায় চাঞ্চল্য এলাকায়।
জানা গিয়েছে, নিজের দোকানের সোনার গয়না বাড়িতে লুকিয়ে রেখে দোকানের শাটার ভেঙে চুরি অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী ক্ষিতীশ চন্দ্র পাল এবং ছেলে অঙ্কুশ পাল। কিন্তু শেষ মুহুর্তে সমস্ত পরিকল্পনায় ধরা পড়ে যায় পুলিশের কাছে। ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাঁর পঞ্চাশ লাখ টাকার সোনা এবং রুপোর গয়না ও নগদ ঢাকা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন থানায়।
অভিযোগে তদন্ত শুরু করে শান্তিপুর থানার পুলিশ। দোকান থেকে উদ্ধার হয় দুটি গোপন ক্যামেরা। শুরু হয় দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ। পুলিশ তদন্ত শুরু করলে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া গয়না। অভিযোগকারীরা নিজেরাই মিথ্যে সাজানো ঘটনার কথা স্বীকার করেন পুলিশের কাছে। সোনার দোকানের মালিক এবং তাঁর ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এই প্রবণতা জেরে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়িক মহল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যবসায়ী প্রায় এক কোটি টাকা বিমা করেছিলেন। ব্যাংকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ঋণও রয়েছে তাঁর। সেই টাকা শোধ করতেই এই পরিকল্পনা বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে, শান্তিপুর স্টেশন বাজার সংলগ্ন এলাকায় এক পোশাক ব্যবসায়ীর দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সেই সময়ও প্রশ্ন ওঠে বিমার টাকা পেতেই ইচ্ছা করে আগুন লাগানো হয়েছে দোকানে। এবার ফের একই রকম ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
শুক্রবার রাতে রেল বাজারে পরপর দুটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। রেলবাজারে একটি সোনার দোকানের শাটার ভেঙে চোরের দল দোকানে ঢুকে একাধিক সোনা এবং রুপার অলংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। সোনার দোকানের মালিকের দাবি চুরি যাওয়া সোনার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি তিনি বলেন ড্রয়ারে এক লক্ষ টাকা নগদ ছিল, সেটাও নিয়ে পালিয়েছে চোরের দল। সকালে উঠে বিষয়টি নজরে আসতে সকলের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
