'আজ যে রাজা কাল সে ফকির' প্রবাদটিকে সামান্য ঘুরিয়ে নিতে হবে। কারণ ইন্দোরের বাসিন্দা মাঙ্গিলালের জীবনের গল্প হল 'আজ যে ফকির কাল সে রাজা'! শারীরিক প্রতিবন্ধী এই বৃদ্ধ পেশায় ভিখারি। ইন্দোর শহরকে ‘ভিখারিমুক্ত’ করার অভিযানে নেমে চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে প্রশাসনিক কর্তাদের। কারণ মাঙ্গিলাল বাস্তবিক কোটিপতি ভিখারি। একাধিক গাড়ি ও বাড়ির মালিক তিনি।
যে জীবনে অসহায়তাই পুঁজি, অন্যের করুণাই ভরসা। সেই জীবনে ভিক্ষা করে তিন কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স করে ফেলেছেন ইন্দোরের সরাফা বাজার এলাকার পরিচিত ভিখারি মাঙ্গিলাল। দু'হাতে জুতো পরে একটি চাকা লাগানো লোহার পাতের গাড়িতে যাতায়াত করেন। তাঁর এই করুণ অবস্থা দেখে ভিক্ষে দেয় সাধারণ মানুষ। এভাবেই দিনের পর দিন মানুষের সহানুভূতি কুড়িয়ে আজ কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন মাঙ্গিলাল।
ভিখারিমুক্ত ইন্দোরের কাজ করছিলেন রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দপ্তর। মাঙ্গিলালের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পারেন বিশাল সম্পত্তির কথা। ইন্দোরের ভগত সিং নগরে তাঁর একটি তিন তলা বাড়ি রয়েছে। শিব নগরে ৬০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি এবং আলওয়াস এলাকায় আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর নামে। এখানেই শেষ নয়, মাঙ্গিলালের একটি সুইফট ডিজায়ার গাড়িও রয়েছে। সেই গাড়ি চালানোর জন্য মাসিক ১২ হাজার টাকায় মাইনে করা চালকও রয়েছে। এছাড়াও তিনটি অটো আছে মাঙ্গিলালের। যেগুলিকে ভাড়ায় খাটান তিনি। এমনকী সুদে টাকা ধার দেন ব্যবসায়ীদের।
এর পরেও অবশ্য মূল পেশা ভিক্ষা থেকে সরে আসেননি মাঙ্গিলাল! তবে কিনা সরকারি সমীক্ষায় অস্বস্তিতে পড়েছেন তিনি। মাঙ্গিলাল শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সুবাদে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা নিয়ে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, নিজের একাধিক বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই সরকারি সুবিধা পেলেন তিনি? শুরু হয়েছে তদন্ত। মাঙ্গিলালের জমানো টাকার উৎসও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
