ঠিক যেমন শেকসপিয়ারের কমেডি অফ এররস কিংবা বিদ্যাসাগর মশাইয়ের ভ্রান্তিবিলাস...। সেখানে অবশ্য শুধু জোড়া নায়ক আর তাদের সহকারী বা কিঙ্করই ছিল যমজ ভাই। কিন্তু কেরলে যা হল তা যেন জোড়ার বন্যা! বিয়ের আসরে অংশ নেওয়া এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল যাঁরা যমজ নন।
বরের বেশে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দুই যুবক, তাঁরা যমজ। অখিল এবং নিখিল। বোঝার উপায় নেই কে কোন জন কারণ তাঁদের পোশাকও এক। তাঁদের দুই হবু স্ত্রী-একই রকম সাদা গাউনে। একই রকম সাজ আর একই অলঙ্কার। তাঁরাও যমজ বোন ম্যাগ আর মারিয়া। বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়। চার্চের ভিতরে দাঁড়িয়ে চারজনের আট হাত মিলিয়ে দিলেন যে দুই পাদ্রি, তাঁরাও যমজ- ফাদার অ্যান্টো পেঝুমকাট্টিল ও ফাদার আজো পেঝুমকাট্টিল। মেরি থমাসের আঙুলে আংটি পরিয়ে দিলেন অখিল। ঠিক তখনই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে অখিলের ভাই নিখিলের হাত থেকে আংটি পরলেন ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া। আর দুই জোড়া যমজকে আশীর্বাদ করলেন চার্চের দুই যমজ পাদ্রি। আবার তাঁদের সাহায্য করতে হাজির ছিলেন আর এক জোড়া যমজ, জেরন জেমস ও জোহন জেমস।
ম্যাগি আর মারিয়ার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল, কোনও দিন বিয়ে করলে যমজ ছেলেকেই করবেন। তবে আরও কিছু শর্ত ছিল তাঁদের। শুধু পাত্র যমজ হলেই হবে না। বিয়ের প্রতিটি ধাপে যাঁরা যুক্ত থাকবেন, সবাইকেই যমজ হতে হবে। তাঁরা নিজেরাই খুঁজতে শুরু করেন যমজ পাদ্রি। অবশেষে কোট্টানাল্লুরের একটি চার্চের মাধ্যমে তাঁদের সন্ধান মেলে। দুই বোনের কথায়, 'এটা শুধু বিয়ে নয়। ছোটবেলার স্বপ্নপূরণ। ঈশ্বরই আমাদের ইচ্ছাপূরণ করেছেন।' আরও মজার বিষয় হল এই দুই বোন এবং দুই ভাই চাকরিও করেন একই ক্ষেত্রে। নেভি ও আইটি সেক্টর। সব কিছু দেখে মনে হতেই পারে গোটা বিষয়টিই আয়নায় দেখা যাচ্ছে।
